বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ প্রথম রাউন্ড

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১১ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য প্রত্যাশিত দল দিয়েছে বাংলাদেশ। এবার দলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পালা। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে বাংলাদেশের ইতিহাস সমৃদ্ধ নয় মোটেই। বিশ্বকাপ মঞ্চে ২৫ ম্যাচের মধ্যে জয় মাত্র ৫টি। চারটিই সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে, ২০০৭-এর প্রথম আসরে হারানো গিয়েছিল উইন্ডিজকে। সেই থেকে আশা আর সম্ভাবনার দোলাচলেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ কাটে। নিয়ম পরিবর্তনের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি মূলপর্ব খেলতে পারে না বাংলাদেশ। পার হতে হয় প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী। এবারও সেই একই পথ ধরে এগোতে হবে। এই এগিয়ে চলায় চ্যালেঞ্জটা কেমন? খ্যাতিমান কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের চোখে চ্যালেঞ্জটা মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জনের এই পর্বটা। এটাকেই বাংলাদেশের আসল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের চোখে দলের আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা অনেক ভারী। সেদিক থেকে চ্যালেঞ্জ জেতাটা কঠিন হবে না।

২০১৪ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আইন বদলের পর দুবারই প্রথম রাউন্ডে খেলতে হয় বাংলাদেশকে। দুবারই প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোনো গেছে গ্রুপ শীর্ষ হয়েই। কিন্তু এর মধ্যেও দাগ আছে। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে হংকংয়ের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে নিশ্চিত ফেভারিট বলে কিছু না থাকায় এবার ওমান, পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি) ও স্কটল্যান্ডকে খাটো করে দেখার কিছু নেই। তার ওপর তিন ম্যাচেই জেতার চাপ থাকছে। নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, এই চ্যালেঞ্জ জেতার একমাত্র উপায় ওমানে আগেভাগে গিয়ে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ‘প্রথম রাউন্ড কিন্তু সাধারণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না যে এক ম্যাচ হারলেও ক্ষতি নেই। এটা বিশ্বকাপের মূলপর্বের বাছাই এখানে হারতে পারি না, জিততেই হবে। তো এই রাউন্ড কিন্তু আমাদের জন্য খুব চাপের হবে। ওখানে ভালো করার একমাত্র সুযোগ হতে পারে ওমানে কিছুদিন আগে গিয়ে অনুশীলন করা। সেজন্য ওখানে প্রস্তুতি ম্যাচও পাচ্ছি। ব্যাটসম্যানরা যেহেতু গত দুই সিরিজে খুব ভালো করতে পারেনি তাই তাদের জন্য এটা বড় সুযোগ। সেখানকার কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলে মূল টুর্নামেন্টের জন্য ভালো।’

কন্ডিশনের কথা ভেবেই আশরাফুল আগে থেকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রাখার উপায় দেখছেন না। ওমান বাংলাদেশের জন্য একদমই নতুন কন্ডিশন। তাই সেখানকার পিচ-পরিবেশ বোঝার ওপরই সব নির্ভর করছে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকায় মানিয়ে নেওয়ায় অসুবিধা দেখছেন না আশরাফুল, ‘ওমানে আসলে আমরা প্রথম খেলছি। ওখানকার কন্ডিশন বা পিচ সম্পর্কে আমরা জানি না। তো ওখানে যাওয়ার পরই আমাদের আসল প্রস্তুতি শুরু হবে। উইকেট দেখে প্রস্তুতিটা ওইভাবে নিতে হবে। আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে দলটা অনেক এগিয়ে। টানা তিনটা সিরিজ জয় কিন্তু বড় ব্যাপার। ১২ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে দল। এখনো ১টা ম্যাচ হাতে আছে। এখানে ভালো কিছু হলে ১৩ ম্যাচে ১০ জয়ের আত্মবিশ্বাসটা থাকছে।’

তামিম ইকবাল না থাকায় চারজনের পরিবর্তে ফ্রন্টলাইন ওপেনার থাকছেন তিনজন। ইনজুরি বা অফফর্মের ঝুঁকি থাকলেও আশরাফুল এতে সমস্যা দেখছেন না, ‘ওপেনার তিনজনই ঠিক আছে। বাড়তি ওপেনার নিয়ে তো লাভ নেই। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি অবশ্যই ভোগাবে কিন্তু দলে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে শেখ মাহেদী আছে। লিটন, সৌম্য বা নাঈমের অনাকাক্সিক্ষত কিছু হলে মাহেদী ওপেন করতে পারবে।’

বাংলাদেশে গত দুই সিরিজ স্পিননির্ভর একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওমান বা আরব আমিরাতে পিচ অতটা স্পিনসহায়ক হবে না। তবুও আশরাফুল বাড়তি পেসার নেওয়াটা কন্ডিশনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন, ‘পেসার বাড়বে কিনা সেটা নির্ভর করছে দলের পরিকল্পনা কেমন হবে তার ওপর। ওমানে বা আরব আমিরাতে যাওয়ার পর কন্ডিশন দেখে এটা ঠিক হবে এখনো এ ব্যাপারে কিছু বলা যায় না।’ কিন্তু কোচ ফাহিম ওই কন্ডিশনে পেসার একজন বেশি খেলানোর পক্ষে। টিম কম্বিনেশনের বিষয়টি সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘সেখানকার কন্ডিশনে আসলে তিন পেসার গুরুত্বপূর্ণ। এতে অধিনায়কের জন্য সুবিধা হয়, ভ্যারিয়েশন থাকে বোলিং আক্রমণে। আমাদের স্পিন বিভাগ কিন্তু যথেষ্ট গুছানো। তিন ফ্রন্টলাইন স্পিনার ছাড়াও ভালো স্পিনার আছে, যেমন মাহমুদউল্লাহ নিজেও খুব ভালো স্পিনার। এদিক থেকে একজন স্পিনার কমিয়ে একাদশে তিন পেসার হলে ভালো। তবে ম্যাচে তো অনেক ব্যাপার থাকে টিম ব্যালেন্সের ব্যাপার থাকে, অনেক ধরনের কম্বিনেশন করার ব্যাপার থাকে। যেমন সৌম্যকে যদি খেলানো হয় তখন একজন বাড়তি মিডিয়ার পেসার দল পাচ্ছে। তো এগুলো কন্ডিশন অনুযায়ী সেট করার ব্যাপার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত