সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৬ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই ডিসিপ্লিনের তারই এক সহকর্মী শিক্ষিকা এ অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছোটন দেবনাথকে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের পদসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ছোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর খুবির যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। যার অংশ হিসেবে গত বুধবার বিকেলে অভিযোগকারী শিক্ষিকার শুনানি হয়েছে। অন্যপক্ষের শুনানিও খুব দ্রুত হবে বলে তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগসংক্রান্ত বেশ কিছু প্রমাণাদি ইতিমধ্যে কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

শিক্ষিকার করা অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছর ২৬ জানুয়ারি রাতে ছোটন দেবনাথ তার ভাড়া বাসায় ওই নারী শিক্ষিকাকে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। পরে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ব্যাপারটির জন্য ছোটন ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় ওই নারী শিক্ষিকা ভবিষ্যতে কোনোরকম যোগাযোগ না করার শর্তে তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে সম্প্রতি ঘটনাটি নিয়ে ছোটন ওই শিক্ষিকার সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ, কুৎসা রটানো ও হয়রানির চেষ্টা করলে চলতি মাসের ৪ তারিখে ওই নারী শিক্ষিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর বৈঠক করে ব্যাপারটি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি। এরপর ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে ছোটন দেবনাথকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের চিঠি ইস্যু করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছোটন দেবনাথ বলেন, ‘অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে এখনো জানানো হয়নি। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন তাই এ ব্যাপারে আমার এখন মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে তদন্তে আমার পূর্ণ আস্থা আছে, এর মাধ্যমে আসল সত্য বের হয়ে আসবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি সভাপতি অধ্যাপক মোসা. তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত