অগ্নিঝুঁকিতে লাখো শ্রমিক

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৪ এএম

রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী। যেখানে রয়েছে পোশাক বিক্রির প্রায় ৮ হাজার পাইকারি দোকান এবং পোশাক তৈরির ৫ হাজারের মতো কারখানা। এসব কারখানা ও দোকানে কাজ করেন এক লাখের বেশি শ্রমিক। তবে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা ঠেকাতে এই পোশাক পল্লীতে নেই তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। যদিও এখানে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড। যাতে প্রাণহানির নজিরও রয়েছে। সর্বশেষ কয়েক দিন আগেও পল্লীর নুরু মার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়েছে প্রায় ১০০টি দোকান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর বেশিরভাগ দোকানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অধিকাংশ ভবনে নেই জরুরি নির্গমন পথ। কিছু কিছু জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষে আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে কেরানীগঞ্জের এই গার্মেন্টস পল্লী। জনবহুল ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এই এলাকার যাতায়াতব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যার কারণে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের তা নেভাতে বেগ পেতে হয়। ৩৫-৪০ বছর আগে গড়ে ওঠা এই গার্মেন্টস পল্লী একটু একটু করে এখন অনেক বড় হয়েছে। তবে একই তালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দিকে তেমন নজর দেননি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পল্লীর বেশিরভাগ দোকানেই নেই অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম একটি গ্যাস সিলিন্ডারও। রাস্তাঘাটগুলোও অনেক সরু। এছাড়া ভবন মালিকরা বিল্ডিং কোড না মেনে যে যার মতো ভবন নির্মাণ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় ব্যবহারের বিকল্প রাস্তা বা আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাসহ দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কিছুই নেই এখানে। বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মারগুলোও যেখানে সেখানে বসানো হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পল্লীর মার্কেটগুলোতে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই। যে কারণে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সে সম্পর্কেও বিন্দুমাত্র ধারণা নেই তাদের।

পল্লীর আলম মার্কেটের হাওলাদার ফ্যাশনের মালিক আবু তাহের বলেন, ‘আমার দোকানে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার আছে। কিন্তু আমার আশেপাশের কোনো দোকানেই তো নেই। আল্লাহ না করুক বড় দুর্ঘটনা ঘটলে সবার পাশাপাশি আমিও তো বিপদে পড়ব। অথচ প্রতিটা দোকানে যদি অন্তত ১টা করে গ্যাস সিলিন্ডার থাকে তা হলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রাথমিকভাবে অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটা সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তারপরও অধিকাংশ দোকানদারই এটা কিনতে চায় না।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘দেশে নানা জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখার পরও এখানকার ব্যবসায়ীদের শিক্ষা হচ্ছে না। তারা অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টা মাথায়ই নিচ্ছে না। এখনই এ বিষয়ে সুদৃষ্টি না দিলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতি দেখতে হতে পারে আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ দোকান মালিক ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, তারা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ।

এ প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘দোকানগুলোতে একটা অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার পর্যন্ত রাখতে চায় না ব্যবসায়ীরা। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে বারবার মিটিং করার পরও কিছু জমিদার (ভবন মালিক) বিষয়গুলো পালন করলেও অধিকাংশ জমিদার ও দোকান মালিক করছি করছি বলে অবহেলা করছে, আমাদের কথায় কর্ণপাত করছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত