চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৩ এএম

টাঙ্গাইল শহরের নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় রিনা বেগম (২৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রিনা বেগম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের রাঙাচিরা গ্রামের ইসরাইল মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসবব্যথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস সেন্টারে রিনা বেগমকে ভর্তি করা হয়। পরে গাইনি ডাক্তার সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রিনা বেগম কন্যাসন্তান জন্ম দেন। পরে তাকে কেবিনে আনার পর রাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। বিষয়টি ক্লিনিকের নার্সকে জানালে তিনি কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসককে অবগত করেন। তাদের একাধিকবার ফোন করার পরও তারা আসেননি। পরে সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে রিনা বেগমকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রিনা বেগমের মা চায়না বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘সিজার ভালোভাবে করা হয়নি। সিজার করার পরপরই পেট ফুলতে থাকে। পেটের দুই পাশ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার মেয়ে বারবার ডাক্তারের কথা বলেছে। কিন্তু ডাক্তার আসেনি। ডাক্তারের অবহেলায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে যারা সন্তানহারা করল, আমি তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

স্বামী ইসরাইল মিয়া বলেন, ‘ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার মেয়ে এতিম হয়েছে। আমার মেয়েকে যে এতিম করল, আমি ওই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকের শাস্তি দাবি করছি।’ এ ঘটনার পর ক্লিনিকের ম্যানেজার ও মালিক পালিয়েছে।

নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের রিসিপসনিস্ট সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ক্লিনিকের ম্যানেজার সেলিম জাবেদ ও মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বাইরে আছে। তারা কখন ফিরবে তা-ও জানি না। তাদের ফোন নম্বরও অনুমতি ছাড়া দেওয়া যাবে না।’

মুঠোফোনে নূরুল আমিন খান মাল্টিপারপাস মেডিকেল সেন্টারের মালিক মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘আমি খুবই ব্যস্ত আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’

এ বিষয়ে ডা. সাজিয়া আফরিন বলেন, ওই রোগীকে অপারেশনের সময় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না। অপারেশনের পর আইসিও সাপোর্ট প্রয়োজন হলে স্বজনদের জানালে তারা নিয়ে যেতে ৪-৫ ঘণ্টা দেরি করেন। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তারা দ্রুত মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। আগামীকাল একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত