দুর্লভ স্মারক ও অনুদান গ্রহণ করল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৭ পিএম

মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু দুর্লভ স্মারক ও সাতটি চিত্রকর্ম গ্রহণ করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। শনিবার করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাদুঘর মিলনায়তনে স্মারক ও অনুদান গ্রহণের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সূচনা বক্তব্য দেন জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, শাহরিয়ার কবির, শিল্পী বীরেন সোম, মফিদুল হক, সারা যাকের প্রমুখ।

১৯৭১ সালে দেশান্তরিত শিল্পীদের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের তৈলচিত্র নিয়ে প্রদর্শনী হয়েছিল কলকাতা ও দিল্লিতে। তাৎপর্যময় সেই প্রদর্শনীর সাতটি চিত্রকর্ম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে প্রদান করেছেন লেখক শাহরিয়ার কবির।

অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই স্মারকগুলো মানুষের সামনে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলবে। এগুলো যাতে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় সে জন্যই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দেওয়া হয়েছে।’

প্রয়াত অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের পরিবার তার রচিত ও সংগৃহীত কিছু বই জাদুঘরকে প্রদান করেছেন। আনিসুজ্জামানের গ্রন্থ হস্তান্তর করেন তার স্ত্রী সিদ্দিকা জামান। মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে উদ্দেশ্য করে তার মা কবি সুফিয়া কামালের লেখা একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে মা সুফিয়া কামালের লেখা সেই চিঠি পাঠ করেও শোনান সুলতানা কামাল। মুক্তিযুদ্ধের সুহৃদ মেরি ফ্রানসিস ডানহ্যাম মূল্যবান স্মারক দিয়েছেন জাদুঘরকে। এছাড়া শহীদজায়া সৈয়দা সালমা হক, অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা ও অন্যান্য স্মারকদাতা তাদের সংগ্রহের দলিলপত্র প্রদান করেন।

মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের পক্ষ থেকে মীর নাসির হোসেন ‘সম্মানীয় পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী তহবিলে বিশেষ অনুদান প্রদান করেন। জাদুঘরের সুহৃদ অজয় দাশগুপ্ত, ইরেশ যাকের, ড. সায়মা আলী অদিতি, শ্রিয়া সর্বজয়াসহ আরও কয়েকজন সুহৃদ জাদুঘরে অনুদান প্রদান করেন। পরে অর্থ অনুদান গ্রহণ পর্বে বক্তব্য দেন সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দেওয়া চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রয়াত শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তীর ৭২ বাই ৩৬ ইঞ্চির একটি তৈলচিত্র। চিত্রকর্মটিতে বাঙালি নারীর প্রতি পাকিস্তানি বাহিনীর পৈশাচিক নির্যাতন ফুটে উঠেছে। আরও আছে শিল্পী বীরেন সোম, শিল্পী নিতুন কুন্ডু, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, শিল্পী প্রাণেশ মণ্ডল ও শিল্পী আবুল বারক আলভীর ও শিল্পী রনজিৎ কুমার নিয়োগীর চিত্রকর্ম।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ জনযুদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে স্বাধীনতা এত দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হতো না। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও এই সাধারণ মানুষের প্রেরণায় এগিয়ে চলে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত