ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনার দাবি

ফরিদপুরে বন্যায় ডুবেছে ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৫ এএম

এবারের বন্যায় ফরিদপুরে ৯ উপজেলার পাঁচটিতে দুই হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা, মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁ অববাহিকার কৃষকরা এই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে চলমান বন্যায় আউশ ও রোপা আমন ১ হাজার ৭ হেক্টর, সবজি ৭৬ হেক্টর, মরিচ ৫০ হেক্টর, কলা বাগান ২৭ হেক্টরসহ অন্যান্য ফসল মিলে দুই হাজারের অধিক হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানিয়েছেন, গত ৪-৫ দিন যাবৎ পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো (শুক্রবার ১০ সেপ্টেম্বর) জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার সদর উপজেলার তিন ইউনিয়ন, চরভদ্রাসন উপজেলার তিন ইউনিয়ন, সদরপুর উপজেলার দুই ইউনিয়ন, মধুখালী উপজেলার দুই ইউনিয়ন, ভাঙ্গা উপজেলার দুই ইউনিয়ন, আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিন ইউনিয়নের কৃষকের ফসলের ক্ষেত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের আউশ ধান ও সবজি ক্ষেতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছেন।

একই কথা জানালেন, সদরের ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু ফকির। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নটি পদ্মা নদীবেষ্টিত। যে কারণে যতটুকু ফসল কৃষক করেছে সবই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতী নদীর পানিতে সদরপুর, ভাঙ্গা এবং মধুখালী, আলফাডাঙ্গা উপজেলার নদীর নিকটবর্তী এলাকার কৃষিজমি তলিয়ে মরিচ, আউশ ধান, সবজি ও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধুখালী উপজেলার চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জানান, এ উপজেলাতে মরিচ ও সবজির আবাদ বেশি হয়, মধুমতীর পানিতে ক্ষেতগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি সরকারের কাছে কৃষকরা যাতে আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

চলমান বন্যায় জেলার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হযরত আলী বলেন, বন্যায় যেমন ফসলের ক্ষতি হয় তেমনি পানি নেমে গেলে ফসলের আবাদও ভালো হয়। এবারের ২৫ দিনে বন্যায় জেলার দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পরেই কৃষকদের মাষকলাই বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার কৃষকদের ক্ষতি প্রসঙ্গে বলেন, কৃষকদের সরকার স্বল্প সুদে কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছে, তারপর অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের আমরা আর্থিক সহায়তা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত