তারেকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হচ্ছে ঢাকা মহানগর কমিটি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৫ এএম

‘আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হলে রাজপথ থেকে দৌড়ে পালাবেন না; বরং দৃঢ় মনোবল ও সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে রাজপথ দখলে নিতে পারবেন’ এমন নেতাদের দিয়ে আগামীর ঢাকা মহানগর বিএনপি গঠন করা হবে। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মহানগরীর জ্যেষ্ঠ নেতারা নয়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এবার ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখবেন। তিনি আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রথমেই দলের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। এরপর বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, মামলার সংখ্যা কেমন, এসব তথ্যসংবলিত ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পদ-পদবি দেওয়া হবে। এবার আর পদপ্রত্যাশীদের নেতাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পেছনে পেছনে ছুটতে হবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের কমিটি গঠনের বিষয়গুলো মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা দেখছেন। তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিই এবারের কমিটি গঠনের বিষয়গুলো দেখবেন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী দিনে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে আর মার খাবে না; বরং নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে। রাজপথ দখলে নিয়ে দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এভাবেই চলছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুনর্গঠন কাজ।’

তিনি বলেন, দক্ষিণের সব ইউনিটের কমিটি গঠনের জন্য আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের দিয়ে ৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের তিনটি করে থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সব ওয়ার্ডের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ওয়ার্ড কমিটি হবে। এরপর থানা কমিটি গঠনের পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তারপরের নির্দেশনা কী হবে তা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই দেবেন। এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক করে দক্ষিণ এবং এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসানউল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরের কমিটি করা হয়েছিল। দুই বছর মেয়াদি সেই কমিটি পাঁচ বছর অতিক্রম করলেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত মহানগরের কমিটির নেতারা। আন্দোলন-সংগ্রামেও সফলতা দেখাতে পারেননি। পরে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে গত ২ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল ইসলাম মজনুকে সদস্য সচিব করে ৪৯ সদস্যের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক ও আমিনুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৪৭ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণের কমিটি গঠনের জন্য ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মহানগর বিএনপিতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উন্মুক্তভাবে তথ্য ফরম বিতরণ করবেন। তারপর মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতারা বসে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্যদের দিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করবেন। এর অংশ হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি তাদের অধীনে সব ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এখন এসব ওয়ার্ডে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। ওয়ার্ড কমিটির পর গঠন করা হবে থানা কমিটি। সবগুলো থানা কমিটি গঠনের পর কাউন্সিলের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি গঠন করা হবে।’

মহানগর বিএনপির বিভিন্ন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তরে বিএনপির ২৫টি থানা এবং ৫৮টি ওয়ার্ড শাখা রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ২৪টি থানা এবং ৭৫টি ওয়ার্ড শাখা রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম উত্তরের ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনের জন্য ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন মিরপুর অঞ্চলে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, গুলশান অঞ্চলে আতিকুল ইসলাম মতিন, বাড্ডা অঞ্চলে মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলে আতাউর রহমান (চেয়ারম্যান), মোহাম্মদপুর অঞ্চলে মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, তেজগাঁও অঞ্চলে আক্তার হোসেন এবং পল্লবী অঞ্চলে গোলাম মোস্তফা। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অন্তর্ভুক্ত ২৪টি সাংগঠনিক থানাকে ৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এসব টিমে সংশ্লিষ্ট থানার নেতাদের রাখা হয়েছে। টিম ১-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নবী উল্লাহ নবীকে। তিনি মুগদা, শাহজাহানপুর ও পল্টন থানার কমিটি গঠনে কাজ করবেন। এভাবে টিম-২ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইউনুস মৃধা শাহবাগ, রমনা ও নিউ মার্কেট থানা। টিম-৩ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুস সাত্তার মতিঝিল, সবুজবাগ ও খিলগাও থানা। টিম-৪-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মোশাররফ হোসেন খোকন ধানমন্ডি, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা। টিম-৫ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তানভীর আহমেদ রবিন লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচর থানা। টিম-৬ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সাইফুল ইসলাম সূত্রাপুর, কোতোয়ালি ও গে-ারিয়া থানা। টিম-৭ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হারুনুর রশীদ হারুন ওয়ারী, বংশাল ও যাত্রাবাড়ী থানা এবং টিম-৮ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা লিটন মাহমুদ ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী থানা কমিটি গঠনে কাজ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত