সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
শনিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ নিন্দা জানানো হয় বলে রবিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় গত ৪ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে শাহিবর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করে। সভ্য পৃথিবীর কোনো দেশের সীমান্তে এভাবে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় না। এটা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই এসব সীমান্ত হত্যার বিষয়ে কখনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সভায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করতে সরকারকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, ‘উপহারের ঘর যারা ভেঙেছে, তাদের তালিকা হাতে রয়েছে’- প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্য আশ্রয়ান-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ দলীয় ঠিকাদার ও দলবাজ আমলাদের দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাওয়ার শামিল। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকে এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রে সর্বক্ষেত্রে আওয়ামী সরকার দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
এছাড়াও চট্টগ্রাম পুরোনো সার্কিট হাউজে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নামে থাকা জাদুঘর সরিয়ে ফেলা হবে বলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন, সভায় তারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সম্প্রতি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিসহ দলের বহুসংখ্যক নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গ্রেপ্তারদের অবিলম্বে মুক্তি ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় সভায়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।
