পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানিকে আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ ফ্রি-ফ্লোট (লেনদেনযোগ্য) শেয়ার নিশ্চিত করতে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানি তিনটি হলো বেসরকারি খাতের ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। বর্তমান বাজার দরে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে কোম্পানি তিনটির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা পুঁজিবাজার থেকে ৫ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা তুলতে পারবেন।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল রবিবার এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি সংশোধন হওয়া পাবলিক ইস্যু বিধিমালা পরিপালন করতেই তিন কোম্পানিকে নির্ধারিত পরিমাণের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিধান আরোপ করে এসইসি। এরই ধারাবাহিকতায় তালিকাভুক্ত ওই তিন কোম্পানিকে আরও শেয়ার ছাড়তে চিঠি দিল কমিশন। উল্লিখিত তিন কোম্পানির কোনোটিরই ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ১০ শতাংশ নেই। বর্তমানে এই তিন কোম্পানির লেনদেনযোগ্য শেয়ার রয়েছে শূন্য দশমিক ৯৭ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত। ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারে ওয়ালটনের ঘাটতি রয়েছে মোট শেয়ারের ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আইসিবির ঘাটতি ৬ দশমিক ৮১ এবং বার্জার পেইন্টসের ৫ শতাংশ।
বাজারে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বাড়াতে তিন কোম্পানিকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় দিয়েছে এসইসি। তবে কোনো মাসে কোম্পানিগুলো মোট শেয়ার বিবেচনায় ১ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না। মূলত ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বাড়াতে গিয়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে যাতে পতন না হয়, তা ঠেকাতেই এমন শর্ত দিয়েছে কমিশন।
ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওই শেয়ার, যার মালিকরা পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই তাদের শেয়ার বিক্রি করার অধিকার রাখেন। সাধারণত তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারধারী (নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত) ছাড়া অন্য সব শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার ফ্রি-ফ্লোট হিসেবে বিবেচিত হয়। লকইন মেয়াদ শেষে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের শেয়ারও ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারে যোগ হয়।
এসইসির চিঠিতে সংশ্লিষ্ট তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তিন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের স্ব স্ব কোম্পানিতে থাকা নিজেদের শেয়ার নির্ধারিত পরিমাণে বিক্রি করতে হবে, যাতে কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার মোট শেয়ারের অন্নত ১০ শতাংশ হয়। বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি হবে বলে এতে নতুন করে কোম্পানির শেয়ার বাড়বে না।
গত আগস্ট শেষে ওয়ালটন হাইটেকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মোট শেয়ার ছিল ৯৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি। এ হিসাবে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ২ কোটি ৭৩ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে। গতকাল শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৩৭ টাকা। এ দর বিবেচনায় নিলে উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করে পাবেন ৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা।
বহুজাতিক বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের মোট শেয়ার প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার। মালিকপক্ষের কাছে রয়েছে ৯৫ শতাংশ শেয়ার। অর্থাৎ তাদের ৫ শতাংশ বা ২৩ লাখ ১৯ হাজার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। গতকাল শেয়ারটির বাজার মূল্য ছিল ১ হাজার ৯২১ টাকা। এ হিসাবে উদ্যোক্তারা শেয়ার বিক্রি করে পাবেন ৪৪৫ কোটি টাকা।
এছাড়া আইসিবির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ৮০ কোটি ৫৮ লাখের বেশি। সরকার এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার মোটের ৯৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ এদের ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। গতকালের সর্বশেষ বাজার মূল্য ১৪২ টাকা হিসাবে তাদের বিক্রি করতে হবে ৭৭৯ কোটি টাকার শেয়ার।
উল্লিখিত তিন কোম্পানির বাইরে এখন শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিডি সার্ভিসেস কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার নেই। এ কোম্পানির অধীনে রয়েছে রাজধানীর শাহবাগের পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল এবং আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। কোম্পানিটিতে সরকারের শেয়ার ৯৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার মাত্র শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ। বছরের পর বছর লোকসানি এ কোম্পানির শেয়ারের কোনো কেনাবেচা হয় না।
