নতুন নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের যাকে যেখানে পদায়ন করা হয়েছে, সেখানেই কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘৪০৯ জন নতুন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন নিয়োগ বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়নি। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ইতিমধ্যে আমার কাছে অনেক টেলিফোন এসেছে নিজেদের পছন্দমতো হাসপাতালে নিয়োগ পাওয়ার জন্য। আমি তাদের বলতে চাই, অধিদপ্তর থেকে যাদের যে হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেখানেই কাজ করবেন।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিওলজি) পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান এবং ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সংকট রয়েছে। তাই তাদের নতুন নিয়োগটি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। আমাদের আরও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট প্রয়োজন রয়েছে। আগামীতেও অ্যানেস্থেসিওলজিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাহলে এই সংকট আর থাকবে না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড মহামারীর মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলোতে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের বেশি প্রয়োজন দেখা দেয়। অথচ অনুমোদিত ৬০৮টি পদের বিপরীতে ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। একসঙ্গে ষষ্ঠ গ্রেডে ৪০৯ জন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক নিয়োগ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ২০২০ সালে আমরা ১৬৯ জন চিকিৎসককে পদোন্নতি দিয়েছি। সে সময় উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় অবশিষ্ট ৪০৯টি পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত ৭ জুলাই ৪০৯টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে অনুরোধ করা হলে ৫ সেপ্টেম্বর সেই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ জন্য কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে সংক্রমণের হার কমছে। বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ; যা এখন সারা বিশে^ প্রশংসিত। করোনা নিয়ন্ত্রণ কোনো ম্যাজিকের মাধ্যমে সম্ভব হয়নি। এটা কাজের ফল, প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায় চিকিৎসক, নার্স ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের হার কমেছে। এই হার যেকোনো সময় বাড়তে পারে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে, সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো আছে। ৬ শতাংশ গ্রোথ রেট আছে। খাদ্যের অভাব হচ্ছে না। বিদেশে লোক যাওয়া-আসা করছে। ব্যাপক বা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আমরা পাচ্ছি।’
দেশে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা করোনা ভ্যাকসিনেশনেও ভালো করছি। এ বছর আরও অনেক ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এ মাসে দেড় কোটি ভ্যাকসিন চলে আসবে। আমাদের সমালোচনা থাকবে। সমালোচনাকে তোয়াক্কা করিনি। সমালোচনার ফলে আমাদের গতি অনেক বেড়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
