চীন আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণে অংশ নিতে পারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে সহায়তা প্রদান করতে পারে জানিয়ে তালেবান এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের বৃহৎ আকারের বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখে ভারতের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা খারিজ করে দিয়েছে। খবর: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
চীনের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেন, ভারতের কিছু উদ্বেগ যথাযথ নয় এবং তা যুক্তিযুক্তও নয়।
মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহার শেষে তালেবানরা এখন আগামী ছয় মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগের দিকে তাকিয়ে আছে।
শাহীন ভারতকে জিজ্ঞেস করেন, ‘বিদেশি দখলদারি শেষ, আমাদের এখন আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। চীন আমাদের জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আফগানিস্তানকে পুনর্নির্মাণে আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। সুতরাং তাতে দোষের কী আছে?’
তিনি বলেন, তালেবানের পারস্পরিক স্বার্থের নীতি রয়েছে এবং এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে চীন আফগানিস্তানকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
‘চীন আফগানিস্তানকে নির্মাণেও অংশ নিতে পারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে সহায়তা প্রদান করতে পারে। এর পরে, উভয় দেশ পারস্পরিক উপকারী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে পারে যা পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থকে সর্বোত্তমভাবে রক্ষা করতে পারে’।
এর আগে, তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরে (সিপিইসি) তাদের যোগদানের ‘ইচ্ছা’ রয়েছে।
এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে যে, চীন আফগানিস্তানে সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য ২০১৮ সাল থেকেই তালেবানদের সাহায্য করছে।
সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিক্কি এশিয়া জানিয়েছে, ‘বেইজিং এবং তালেবানের মধ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে মৌখিক চুক্তি রয়েছে’। ওই সূত্র আরও বলে, ‘তালেবান সরকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করলে, চীন যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ শুরু করবে’।
গত সপ্তাহে, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ চীন, ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি।
বৈঠকে চীন আফগানিস্তানকে শস্য, শীতকালীন পণ্য, ভ্যাকসিন এবং ওষুধসহ ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীন এখন যা করতে পারে তা হল স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষে-মানুষে বিনিময়ের ক্ষেত্রে তালেবানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের এশিয়া প্রোগ্রামের একজন সিনিয়র ট্রান্স-আটলান্টিক ফেলো অ্যান্ড্রু স্মল বিশ্বাস করেন যে, তালেবানদের অবিলম্বে বিনিয়োগের অনুরোধ চীনকে লাভবান করে। স্মল নিক্কি এশিয়াকে বলেন, ‘বেইজিং বিআরআই ও সিপিইসি সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে রাজি আছে, কিন্তু রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত স্থলভাগে কিছু নিয়ে এগোবে না’।
সিপিইসি চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি অংশ, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় দেশগুলিতে চীনের ঐতিহাসিক বাণিজ্য রুট পুনরায় চালু করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলার জন্য চীন সিপিইসির মাধ্যমে পাকিস্তান এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়।
