আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক সম্পাদকদের অতি দ্রুত দল গোছানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধারাবাহিক নির্বাহী কমিটির বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে নেতাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন।
গতকাল বিকেল ৪টায় এ বৈঠক শুরু হয়। টানা সাড়ে ৭ ঘণ্টা শেষে রাত সাড়ে ১১টায় এ বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের নেতা বলেছেন এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাই দ্রুত দলের পুনর্গঠন শেষ করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন।
তারা আরও বলেন, বিকেলে বৈঠক শুরু হয় সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন। নেতাদের বক্তব্য শেষে তারেক রহমান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম দিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মতামত নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাড়ে ৪ ঘণ্টার ওই বৈঠকে ২৮ জন নেতা আগামী নির্বাচন ও দলের করণীয় বিষয়ে মতামত দেন।
গতকাল বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এ বি এম আবদুস সাত্তার ও রিয়াজ উদ্দিন নসু, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার।
দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব-সাংগঠনিক সম্পাদক-সহসম্পাদক মিলে ৯৫ জন নেতা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল; সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহবুবুর রহমান শামীম, বিলকিস জাহান শিরিন, আসাদুল হাবিব দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, ডা. সাওয়াত হাসান জীবন, মোস্তাক মিয়া; বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন; সম্পাদকদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়া, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, লুৎফুর রহমান কাজল, আনিসুজ্জামান খান বাবু, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জয়নাল আবেদীন, নুরে আরা সাফা, ডা. রফিকুল ইসলাম, খালেদ মাহবুব শ্যামল, এ এম এ নাজিম উদ্দিন, সোহরাব উদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জি কে গউস, গৌতম চক্রবর্তী, আবুল কালাম আজাদ, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, আসাদুজ্জামান আজাদ, মীর সরফত আলী সফু প্রমুখ।
সহসম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কুদ্দুসুর রহমান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, রুমিন ফারহানা, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রওনকুল ইসলাম টিপু, ইকবাল হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, হারুনুর রশীদ, শামীমুর রহমান শামীম, শরীফুল আলম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আমিরুজ্জামান শিমুল, এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, মাশুকুর রহমান, কাদের গনি চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর খান, ফিরোজ-উজ জামান মোল্লা, ওয়ারেস আলী, হারুনুর রশীদ হারুন, নিলোফার চৌধুরী মনি, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আখতার, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, খালেদ হোসেন চৌধুরী পাইন, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, জালাল উদ্দিন মজুমদার, মাহবুবুল হাসান বাবু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, নজরুল ইসলাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলীম, হেলেন জেরিন খান, শাহাবুদ্দিন সাবু, কাজী আবুল বাশার, অপর্ণা রায় দাস, দীপেন দেওয়ান, অমলেন্দু অপু, আবদুল বারী ড্যানি, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক, শফিকুল হক মিলন, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, রফিকুল কবির লাবু, আশরাফ উদ্দিন বকুল, এস এম গালিব, মনিষ দেওয়ান, ওয়াদুদ ভুঁইয়া।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাহী কমিটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫০২ জন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
