নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তান সফর বাতিল

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৭ পিএম

১৮ বছর পর পাকিস্তান সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই সফরের এমন পরিণতি হবে তা ভাবা যায়নি। যদিও ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর নিউজিল্যান্ডের সফর নিয়ে প্রথমবারের মতো সংশয় দেখা দেয়। তখনো নিরাপত্তা সমস্যার কারণে সফর বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সব সংশয় দূরে ঠেলে তিনটি ওয়ানডে আর পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়ার কথা ছিল প্রথম ওয়ানডে। খেলা মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ এবং সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায় পিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, ‘টসের সময় পেরিয়ে গেলেও দুই দল মাঠে পৌঁছায়নি। পিন্ডি স্টেডিয়ামে নেই কোনো দর্শকও। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাপোর্ট স্টাফদেরও হোটেলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে এবং বাইরে বের হয়ে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে।’ এরপরই  নিরাপত্তা শঙ্কায় পুরো সিরিজ বাতিলের খবর আসে। হঠাৎ এবং এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হতাশ এবং ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। পিসিবির নতুন চেয়ারম্যান রমিজ রাজা উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোন দুনিয়ায় বাস নিউজিল্যান্ডের!’ তবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া যাই হোক নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করেছে এটাই বাস্তব। তাতে বঞ্চিত হলো পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকরা। পিসিবির পক্ষ থেকে আগে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘আজ (শুক্রবার) নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আমাদের জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তার কারণে সতর্ক করা হয়েছে এবং তারা এককভাবে সিরিজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলা হয়, ‘পিসিবি ও পাকিস্তান সরকার প্রতিটা সফরকারী দলের জন্যই পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকেও আমরা একই নিশ্চয়তা দিয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাকে আশ^স্ত করেছেন এই বলে যে, আমাদের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা সংস্থা। সফরকারী দলের ওপর কোনো হুমকি নেই।’ বিবৃতিতে পিসিবি আরও জানিয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সব সময় পাকিস্তান সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। পিসিবি ম্যাচ আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে পাকিস্তান ও বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা শেষ মুহূর্তে এসে এই স্থগিতের সিদ্ধান্তে হতাশ হবেন।’

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলছে নিরাপত্তা হুমকির কথা, ‘পাকিস্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড সরকারের নিরাপত্তা হুমকির তথ্য অবনতি হওয়ার পর মাঠে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ব্ল্যাকক্যাপরা এ সফর চালিয়ে যাবে না। দলের পাকিস্তান ত্যাগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

ক্রিকেট নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট বলেছেন, ‘যে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এ সফর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি জানি, এটা পিসিবির জন্য আঘাত। তারা দারুণ আতিথেয়তা দিয়েছে আমাদের। তবে সবার ওপরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং এটাই (সফর বাতিল করা) একমাত্র দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত বলে বিশ্বাস করি আমরা।’ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট প্লেয়ারস অ্যাসোসিয়েশন সফর বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই। খেলোয়াড়রা ভালো আছে, নিরাপদে আছে। সবাই নিজেদের সংশ্লিষ্ট কাজে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

রমিজ রাজা টুইটারে লিখেছেন, ‘অনেক পাগলাটে একটা দিন গেল! সমর্থক ও আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য খুব খারাপ লাগছে। নিরাপত্তা হুমকির ব্যাপারে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এভাবে সফর থেকে সরে যাওয়া খুবই হতাশাজনক। বিশেষ করে যখন কোনো কিছু না জানিয়েই তা করা হলো। আইসিসির দরবারে নিউজিল্যান্ড আমাদের জবাব পাবে।’

টুইটারে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম হতাশা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘হঠাৎ করে সিরিজ স্থগিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত হতাশ, যা পাকিস্তানের কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের মুখে এই সিরিজ হাসি ফিরিয়ে আনতে পারত। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থার ক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা আমাদের গর্ব এবং সব সময়ই থাকবে! পাকিস্তান জিন্দাবাদ!’

পাকিস্তান সবশেষ এমন হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর। যার জেরে এক যুগেরও বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল পাকিস্তানে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত