ডিসেম্বরে রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিএনপির

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১৯ এএম

আগামী ডিসেম্বরে রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলছে, এর আগে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কাজ শেষ করা হবে। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের দাবিতে এ আন্দোলনে নামছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে আন্দোলন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।

দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠকে নির্বাহী কমিটির নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ ইসির অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন আমরা স্থায়ী কমিটির সভায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন। বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রস্তুতি শেষে আলাপ-আলোচনা করে সঠিক সময়ে আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে। সময় হলে আমরা দেশবাসীকে জানিয়ে দেব। জনগণকে আমাদের সঙ্গে রাজপথে নামার আহ্বান জানাব। আমরা আন্দোলনেই আছি। আরও কঠোর আন্দোলনে আমরা যাব।’   

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগে গঠন করা হবে নতুন ইসি। তাই সরকার যাতে নিজের পছন্দমতো ইসি গঠন করতে না পারে সে জন্য ডিসেম্বরের শেষের দিকে আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তার আগে বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ ইসি গঠনে দলের মতামত দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপির প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর বিএনপির পুনর্গঠনের ব্যাপারে বিএনপি নেতারা গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহানগরে যারা দায়িত্বে আসতে চান তাদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ফরম বিতরণ চলছে। এ জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পর সেসব তথ্য যাচাইবাছাই শেষে কাদেরকে পদ দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা হবে।’

কবে নাগাদ পুনর্গঠন কাজ শেষ হবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি করা যায় তত তাড়াতাড়ি কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে বলেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। আমরা সেভাবে কাজ করছি। বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করছি।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন দিনের সিরিজ বৈঠকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ, মধ্যম ও তরুণ নেতাদের সবাই বলেছেন, আন্দোলন ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। গণতন্ত্রের নেত্রীকে আজীবন কারারুদ্ধই থাকতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকারের ফয়সালা রাজপথেই করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এমনকি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে না।

বিএনপির হাইকমান্ডও ডিসেম্বরে আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, সামনে রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। যেসব দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মাঠে থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজপথে থাকা নেতাদেরই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠাঁই দেওয়া হবে।’ 

নেতারা বলেছেন, ‘আন্দোলন শুরুর আগে বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলো গোছানোর পরামর্শ এসেছে ধারাবাহিক বৈঠকে। তিন দিনের বৈঠকে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের পাশাপাশি সব অঙ্গ-সংগঠন আন্দোলনমুখী নেতৃত্ব পুনর্গঠনের দাবি এসেছে। বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের মতো অঙ্গ-সংগঠনগুলো দ্রুত কমিটি গঠনের জন্য নেতারা তাগাদা দেন বলে জানা গেছে। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ৯টি এবং সহযোগী সংগঠন ২টি। সব অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। ওলামা দল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দল ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করে যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তারও মেয়াদ চলে গেছে।’

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নেতাদের যেমন মতামত নিয়েছেন তেমনি তাদের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের তৃতীয় দিনের ধারাবাহিক বৈঠকের পর রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে মাঠ পর্যায়ের নেতাদেরও মতামত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমাদের তিনটি সভা হলো। আগামীকাল শনিবার আমাদের স্থায়ী কমিটির মিটিং আছে। এই মিটিংয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে, আরও কয়েকটি সভা করব কিনা। কারণ আমাদের এখনো কিছু কার্যনির্বাহী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় বাকি রয়েছে, তাদের নিয়ে এবং জেলা পর্যায়ের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিদের নিয়ে মিটিং করার কথা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়ত সেই বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেব। পরে পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে। আমরা দেখি যে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যদি সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তীকালে এই মিটিংগুলো আমরা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত