রাসেল দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ

ইভ্যালির গ্রাহকের টাকার হদিস নেই : র‌্যাব

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ এএম

গ্রাহকদের টাকার কোনো হদিস দিতে পারছেন না ইভ্যালির ব্যবস্থাপক ও সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। গ্রাহকের কত টাকা কোথায় বা কোন খাতে রয়েছে, র‌্যাবের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলেও তারা এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা দিতে পারছেন না। শুধু দাবি করছেন, সব টাকা নষ্ট হয়ে গেছে।

র‌্যাবের ভাষ্য, ২ লাখ টাকার টিভি ১ লাখ টাকায় বিক্রির অফারেই বেশিরভাগ অর্থ খরচ করে ফেলেছেন রাসেল দম্পতি। তাদের সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে প্রচার-প্রচারণায়। দেশের শীর্ষ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং দেশজুড়ে বিলবোর্ডের পেছনে ব্যয় হয়েছে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ।

জানতে চাইলে র‌্যাবের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘শুরু থেকেই রাসেল দম্পতি সব টাকা নষ্ট হয়ে গেছে বলছেন। কীভাবে নষ্ট হয়েছে, তারও একটি ব্যাখ্যা তারা দিয়েছেন, যা মোটামুটি সত্য মনে হচ্ছে। যেমন প্রতি মাসে ইভ্যালির স্টাফদের বেতনবাবদ ব্যয় হতো কমপক্ষে ৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে আড়াই বছরে পৌনে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। টেলিভিশনে টক শোতে স্পন্সর করতেন তারা। দেশজুড়েই ছিল বিলবোর্ড। এখানে তো শত শত কোটি টাকার অপচয় স্পষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘এর বাইরে এ দম্পতি টাকা পাচার করেছেন কি না, সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক খতিয়ে দেখতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইভ্যালির অ্যাকাউন্টসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডে নজরদারি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। ব্যাংক না হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে, তার নির্ভুল তথ্য একমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকই দিতে পারবে। তবে রাসেল দম্পতি ঘনঘন বিদেশ যেতেন। সরাসরি বা অন্য চোরাই পথে টাকা পাচার করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব পরিচালক বলেন, ‘ইভ্যালির অফার ছিল লোভনীয়। অফারের অর্ধেকও গ্রাহককে দিয়ে থাকলে নির্ঘাত লোকসান হওয়ার কথা। ৭০ থেকে ৮০ এমনকি শতভাগ ক্যাশব্যাক অফারও ছিল, সঙ্গে অর্ধেক দামে পণ্য। আমরা কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছি। আরও বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’

দুদফা হাসপাতালে রাসেল : এদিকে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রিমান্ডের প্রথম দিনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং র‌্যাবকে প্রাথমিকভাবে দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, র‌্যাবের হেফাজত থেকে রাসেলকে গত শুক্রবার দুপুরে গুলশান থানায় আনা হয়। রাতে তিনি অসুস্থ দাবি করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাসেল অসুস্থবোধ করছেন জানালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তিনি ভালো আছেন বলে জানতে পারি। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’

কার্যত বন্ধ ইভ্যালির কার্যক্রম : গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মো. রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের পরও ইভ্যালি সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে গতকাল ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ইভ্যালির অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে একটি নোটিসে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ (গতকাল) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সব কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। তবে বাস্তবে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রেখে ইভ্যালির অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নীতিনির্ধারকরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের বাসাবাড়িতে গিয়েও গোয়েন্দারা কাউকে পাননি বলে জানিয়েছেন।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : ইভ্যালির মতো গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গতকাল মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বেচার অফারে টাকা নিলেও শেষ পর্যন্ত গ্রাহককে পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। এসব প্রতারণার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত