হোঁচট খেল অপারেটর বদলের এমএনপি সেবা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৩ পিএম

প্রথম দিকে ব্যাপক সাড়া ফেললেও বাড়তি সার্ভিস চার্জ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার ঘাটতিতে মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে সংযোগ নম্বর অপরিবর্তিত রেখে মোবাইল অপারেটর বদলের প্রযুক্তি ‘মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি-এমএনপি’।

মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা এমএনপি সেবা এইসব প্রতিবন্ধকতার কারণে কাক্সিক্ষত সুফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণে মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের মাসিক হার সম্প্রতি ১০ হাজারে নেমে এসেছে। যেখানে সেবাটি চালুর পর এই গ্রাহক ছিল ৫০ হাজার।

২০১৮ সালের অক্টোবরে দেশে প্রথমবারের মতো এমএনপি সেবা চালু হয়। তবে গত বছর করোনা মহামারীর সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পরপর এমএনপির গ্রাহক সুবিধা নেওয়ার হার কমে ৫ হাজারে নেমে আসে।

এমএনপি সেবা নেওয়ার জন্য টাকা পরিশোধ করলেও কোনো মেসেজ না আসা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন এর গ্রাহকরা। এর ফলে ইফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি লিমিটেডের অস্তিত্বও সংকটে পড়ে। এমএনপির মাধ্যমে মোবাইল অপারেটর বদল করা অনেক গ্রাহক পরবর্তী সময়ে এ ধরনের জটিলতায় পড়ে আগের অপারেটরে ফেরত আসতে বাধ্য হয়। অথচ এর কোনো প্রতিকার তারা পাননি।

মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের যাদের এই সেবা নেওয়ার আগ্রহ ছিল তারাও আর এসব জটিলতার কথা শুনে এ-মুখো হচ্ছেন না বলে ইফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডির এক কর্মকর্তা জানান। তিনি আরও বলেন, এমএনপি সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে যদি এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করা হয়।

যেহেতু এসএমএস এগ্রিগেটররা চায় না ইফোজিলিয়নের সেবা ভালোভাবে গ্রাহক নিতে পারুক, সেজন্য তারা অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঠিকমতো মেসেজ ডেলিভারি করে না বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, এমএনপি অপারেটদের লোকাল রাওটিং নম্বর (এলআরএন) ব্যবহার করে সঠিক রাওটিংয়ে কল বা এসএমএস পাঠাতে হয় এজন্য এখানে একটি এসএমএস এগ্রিগেটরের প্রয়োজন হয়, যাদের মূল মোবাইল অপারেটরকে এসএমএস পাঠানোর জন্য খরচ দিতে হয়।

এই এসএমএস ইস্যুর কারণে এমএনপি সেবার সার্ভিস চার্জ বেড়ে যাচ্ছে যা এই সেবার সম্প্রসারণের একটি বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এমএনপি সেবার প্রযোজ্য সিম ট্যাক্স কমালেও ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তা আবার আরোপ করে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে এমএনপির খরচ ২০০ টাকা থেকে ২৫৬ টাকায় উঠে আসে।

এসব কারণে ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডির আয়ে বড় ধরনের ধস নামে এবং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশ রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে মুনাফা ভাগাভাগির হার কমিয়ে আনার চেষ্টা করে।

দেশের মোবাইল নম্বর পোর্টিবিলিটি সেবার নীতিমালা অনুযায়ী, এমএনপি সেবা চালুর পরের বছর থেকে ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি তার মুনাফার ১৫ শতাংশ সরকারকে দিচ্ছে।

তবে সম্প্রতি আয় কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে এই মুনাফা ভাগাভাগির হার কমিয়ে আনতে অনুরোধ জানায়। প্রতিষ্ঠানটি চাচ্ছে অন্যান্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের মতো এই প্রতিষ্ঠানটিও তাদের মুনাফার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারকে দেবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকার ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত