মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড

সঞ্চিতি ফেরতের অর্থে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৪ পিএম

সুদ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের। পরিচালন আয়েও রয়েছে বড় অঙ্কের লোকসান। তবে করোনাকালে ঋণ শ্রেণীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার কারণে সঞ্চিতি সংরক্ষণ বাবদ রাখা অর্থ ফেরত পাওয়ায় চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাইডাস ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অবশ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুনাফার পরও চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বড় অঙ্কের লোকসানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের কোম্পানি সচিব তানভির হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি বছরের এপ্রিলে ঋণ শ্রেণীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের কারণে সঞ্চিতিবাবদ সংরক্ষণ করা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফেরত আসায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা সম্ভব হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে যে মাস্টার সার্কুলার জারি হয়েছে, তার ফলে হয়তো আগামীতে সুবিধা না-ও থাকতে পারে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দিলে সরকারের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তায় বেশ কয়েকটি সার্কুলার জারি করে। সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি করা যাবে নাÑ বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারি করে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাবদ অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়নি। তবে এ সুযোগটি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত না থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ শ্রেণীকরণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো মাইডাস ফাইন্যান্সকেও খেলাপির বিপরীতে বড় অঙ্কের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে।

আবার চলতি বছরের ২০ এপ্রিল নতুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে মার্চ পর্যন্ত ঋণের কিস্তি জুন মাসের মধ্যে পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপমানে শ্রেণীকরণ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সুবিধার ফলে চলতি প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ঋণ শ্রেণীকরণের বিপরীতে সংরক্ষণ করা সঞ্চিতির উল্লেখযোগ্য অংশ আয় খাতে ফেরত আনতে পেরেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সুবিধার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হতে দেখা যায়।

চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে মাইডাস ফাইন্যান্স ঋণের সুদ বাবদ আয় করেছে ১৮ কোটি টাকা। বিপরীতে এ সময়ে আমানত ও ধারের সুদবাবদ ব্যয় করেছে ২০ কোটি টাকা। সরকার ঋণ ও আমানতের সুদহার বেঁধে দেওয়ার পরও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সুদবাবদ লোকসান হয়েছে ২ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে নিট সুদ আয় ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও সুদ আয় ইতিবাচক ছিল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য আয়ও কমেছে। ফলে এ সময় পরিচালন আয়ে ৪২ লাখ টাকা লোকসান হয়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৪ কোটি টাকা মুনাফা ছিল।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাইডাস ফাইন্যান্সের পরিচালন ব্যয় হয় ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এতে করে সঞ্চিতির আগে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান দাঁড়ায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৩ লাখ টাকা।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সব ধরনের মন্দ ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে মাইডাস ফাইন্যান্স ৫৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করে। গত এপ্রিলে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়ানোর ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জমা রাখা সঞ্চিতি থেকে ২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আয় খাতে ফেরত আনা হয়। একই সময়ে শেয়ারের দাম বাড়ায় এ খাতে রাখা সঞ্চিতি থেকেও ২৬ লাখ টাকা আয় খাতে ফেরত আসে। সব মিলিয়ে সাধারণ ও অন্যান্য সঞ্চিতি সমন্বয় শেষে ১৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় খাতে আনা হয়েছে। এতে করে দ্বিতীয় প্রান্তিকে করপূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল।

এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা হলেও প্রথম প্রান্তিকে সঞ্চিতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় চলতি প্রথমার্ধে মাইডাস ফাইন্যান্সের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ লাখ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত