দেশের সব মানুষের জন্য তথ্যভাণ্ডার করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যুরো (বিবিএস)। এ জন্য তৈরি হচ্ছে জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্ট্রার (এনপিআর)। এক্ষেত্রে মানুষের প্রাইভেসি রক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত এক কর্মশালায় বিষয়টি জানানো হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই ধরনের রেজিস্ট্রার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে তোলাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের প্রাইভেসি রক্ষার বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি সংস্থাগুলো আমাদের তথ্য নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রেজিস্ট্রার খাতে ওভারল্যাপিং না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় ঘটে। অর্থের অপচয় আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না।
কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, এটি একটি মাইলফলক হবে। এখানে নাগরিকদের সব তথ্যই থাকবে। এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ডুপ্লিকেশন বা ওভারল্যাপিং যেন না হয়, এ বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখতে হবে। সময়, খরচ ও জটিলতা এড়াতে ধীর-স্থিরভাবে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই রেজিস্ট্রার যেন শক্তিশালী হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, তথ্য সঠিক না হলে পরিকল্পনা সঠিক হবে না। বেজ ইয়ার ডাটা দ্রুত ঠিক করা দরকার। জনশুমারির ও গৃহশুমারি থেকে কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে। এগুলোতে কাছাকাছি তথ্য রয়েছে। প্রত্যেকের আইডেন্টিফিকেশন প্রতিটিতেই রয়েছে। জটিলতা এড়াতে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গড়ে তুলে এসব তথ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারি, আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী ও বিবিএস মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএস পরিচালক ড. মো. শাহাদত হোসেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, এই রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে কেউ মারা গেলেও তার তথ্য মুছে যাবে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এ তথ্যগুলো সংরক্ষিত থাকবে।
