কৃষি বিষয়ে আগাম তথ্য দিতে সরকার সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে আবহাওয়া তথ্য বাতায়ন বোর্ড (কৃষি তথ্য বোর্ড) চালুর উদ্যোগ নেয়। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন কৃষি অফিসে ট্যাবসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বসানো ছাড়াও একজন করে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়।
মেহেরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে একই প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবহাওয়া তথ্য বোর্ড বসানো হয়। কিন্তু দুই বছরেও চালু না হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষায় এ বোর্ড কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। অথচ ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, ‘অনেক আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য সেবাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রত্যেক দিন কৃষকদের কৃষি আবহাওয়ার তথ্য দিতে ইউপি কার্যালয়ের বাইরে বিশাল বোর্ড বসানো ছাড়াও ট্যাব পরিচালনায় প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুলনা কার্যালয় থেকে এসব কর্মীর প্রশিক্ষণ দিতে না পারায় প্রকল্পটির কাজ চালু করা যাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আরও দেরি হবে বলে মনে হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মূলত একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষি আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্মী তথ্য বাতায়ন বোর্ড প্রত্যেক দিন হালনাগাদ করবেন। এখান থেকে কৃষকরা তথ্য জেনে তাদের ফসল সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবেন।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন ফসল রক্ষায় চাষিদের আগাম তথ্য দিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতিকরণ প্রকল্প চালু করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মেহেরপুরের ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা (প্রতিটিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা) ব্যয়ে বসানো হয় কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড। এ তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে চাষিদের প্রতিদিনের খরা, ঝড়-বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, দাবদাহ, শীত, কুয়াশা, বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আগাম তথ্য সেবা দেওয়ার কথা। আবহাওয়া কবে কেমন থাকবে এবং চলতি ফসলের জন্য তা কতটুকু উপকারী ইত্যাদি বিষয় কৃষকরা এ তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে তারা ফসল রক্ষায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছরেও এ তথ্য বোর্ড চালু না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন চাষিরা।
সরেজমিনে মেহেরপুরের বুড়িপোতা ইউনিয়নে গিয়ে কার্যালয়ের সামনে আবহাওয়া তথ্য বোর্ড ও কেন্দ্র স্থাপন দেখা যায়। তবে বোর্ডে নেই কোনো হালনাগাদ তথ্য। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ট্যাবসহ একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। একই দশা বাগোয়ান, আমদাহ, সাহারবাটি, বামুন্দী, মহাজনপুরসহ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের। কৃষি তথ্যসেবা চালু না হওয়ায় কোনো ইউনিয়নের কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন না।
বুড়িপোতা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের কৃষক সাবান আলী বলেন, ‘খরা ও অতিবৃষ্টিতে প্রতিবার ফসলের ক্ষতি হয়। মাঠে ফসল রেখে আমরা ঘুমাতে পারি না। আগাম কৃষি তথ্য পাওয়ার খবরে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু দুই বছরেও ইউনিয়নে গিয়ে কিছু পাইনি। অবশ্য সরকারি কাজ-কারবার এমনই। দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগের কর্মীরা খোঁজ পর্যন্ত নেন না।’
বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ জামান বলেন, ‘সরকারের এত ভালো উদ্যোগ কিছু কর্মকর্তার উদাসীনতায় নষ্ট হতে বসেছে। দুই বছর আগে তথ্য সেবা বোর্ড বসালেও তথ্য দূরে থাক, যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারও দেখা মেলে না।’ আমদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু বলেন, ‘কৃষি তথ্য সেবাকেন্দ্র চালু হলে ফসল উৎপাদন অনেক বেড়ে যেত। আশা করছি, সরকার দ্রুত এটি চালু করতে পদক্ষেপ নেবে।’
