নোয়াখালীতে ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২১ পিএম

নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভা, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ চলছে।

ভোট কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায়, ভোটারদের হুমকির অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়ির চর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটিএম সিরাজ উদ্দিন, চরঈশ্বর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ (আনারস), সোনাদিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) নুরুল ইসলাম ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল) মেহেরাজ উদ্দিন ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জেলার হাতিয়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার মধ্যে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র মিলে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেন।

সোমবার সকাল ৯-১০টার মধ্যে এই প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় নির্বাচন করতে হলে হতে হবে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর আশীর্বাদপুষ্ট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকা প্রতীক পেয়েও মোহাম্মদ আলীর বিরোধিতার কারণে ভোটারদেরকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, হুমকির অভিযোগ, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।

তবে সাবেক এমপি ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের দু’প্রার্থী নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ধরনের অভিযোগ করছে। আমরা চেয়েছি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনে যেই আসুক তাতে আমাদের সমস্যা নেই।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, অফিশিয়ালি এটা আমি জানি না। এ মুহূর্তে এসে ভোট গ্রহণ চলছে।

স্ব স্ব নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ায় ৭টি ইউনিয়নের ৮৬টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৬জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩৩ জন, পুরুষ সদস্য পদে ২৯৩ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৬৭৫ জন পুলিশ, ১৪৬২ জন আনসার, ৬ প্লাটুন কোস্টগার্ড, ২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৫টি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭টি মোবাইল টিম ও ৩ টি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবেন।

কবিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল হক রায়হান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

জেলার কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৪৫১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৯টি ওয়ার্ডে ৩০ জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে লড়বেন। পুরুষ সদস্য পদে ২৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রতি কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ, ৯ জন আনসার, এ ছাড়া বিজিবি ২ প্লাটুন, র‌্যাবের ৪টি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪টি মোবাইল টিম ও র‌্যাবের ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া সুবর্ণচরে ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭ জন। পুরুষ সদস্য পদে ২০৩ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৬ জন নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

৬ টি ইউনিয়নে ৫৬ টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮১৬জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এ উপজেলার ৬টি নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তায় ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫৫৭ জন পুলিশ, ৯৫২ জন আনসার, ৬ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৮টি টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬টি মোবাইল ফোর্স ও ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত