বিচারপতির প্রশংসায় ডা. জাফরুল্লাহ, গণস্বাস্থ্যের রিট আবেদন শোনেনি হাইকোর্ট

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৮ পিএম

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে একটি রিট আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। 

মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে আদালত তা না শুনে অন্য কোনো বেঞ্চে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়ে রিট আবেদনটি কার্য তালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) দেয়। 

আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। 

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালতের বরাতে বলেন, কয়েকদিন আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেছিলেন। এখন এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো আদেশ হলে কেউ মন্তব্য করতে পারেন যে, বিচারক আপ্লুত হয়ে আদেশ দিয়েছেন- এমন যুক্তিতে রিট আবেদনটি না শুনে এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোনো বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।    

ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম জানান, ২০০৩ সালে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ৮০ শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পায়। ২০১০ সালে সেটি উন্নীত করে ১১০ জন ভর্তির সুযোগ পান। পরে ওই মেডিকেল কলেজ ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না বলে আদেশ আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আপিল করা হলে শিক্ষার্থী ১০ জন বাড়িয়ে ৬০ করা হয়। কিন্তু গণস্বাস্থ্যের অবকাঠামো হলো ১১০ জনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন। 

ফখরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে একটি কর্মসূচীতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যে এই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। আদালত বলেছেন, এখন এ মামলায় কোনো আদেশ দিলে কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, বিচারক প্রশংসায় আপ্লুত হয়ে এ আদেশ দিয়েছেন। সে জন্য আবেদনটি আউট অব লিস্ট করে এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।’ 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিপুল বাগমার আদালতের বরাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন, বিচারকদের প্রশংসা বা বদনাম কোনোটার প্রয়োজন নেই। তারা (বিচারক) তাদের মতো কাজ করেন। আদালত আবেদনটি অন্য কোনো বেঞ্চে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।’ 

প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি কর্মসূচীতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত