গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৩ হাজার ৩২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়াচ্ছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর আগে সর্বশেষ শনাক্তের হার পাঁচের নিচে ছিল ৮ মার্চ। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর চেয়ে কম শনাক্তের হার ৭ মার্চ শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে সাড়ে ৬ মাস পর শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এলো।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে দুই সপ্তাহ অবস্থান করে। এমনকি এই হার শূন্যের কাছাকাছি চলে যায়, তাহলে সেটা স্বাভাবিক অবস্থা বলা যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কার যেকোনো সময় বাড়তে পারে। তাই করোনার বিভিন্ন ধরন নিয়ে গবেষণার তাগিদ দেন তারা।
করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে করোনার সংক্রমণ এপিডেমিক থেকে এন্ডেমিক পর্যায়ে এসেছে।’ তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ কমতে কমতে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে যায়। তখন ভাইরাসটি নির্দিষ্ট কিছু জনসংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যেকোনো মহামারীতে এই এন্ডেমিক পর্যায়ে এসেই মানুষ ভাইরাসকে নিয়েই চলতে শিখে যায়। একে স্বাভাবিক অবস্থায় বলা যেতে পারে। তবে আমাদের দেশে করোনার সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেই অর্থে কিছুই করতে পারিনি।’ করোনার সংক্রমণ যেকোনো সময় আবার বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
২১ দিন ধরে করোনার সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার হয়েছে ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এরও আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোগী শনাক্তরে হার ১০ শতাংশের ঘরে আসে। এর দুই দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এরও পরে ৬ সেপ্টেম্বর করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের ঘরে আসে। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৬-৭ সেপ্টেম্বর করোনার সংক্রমণের হার ৬ শতাংশের ঘরে থাকলেও ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তা ৫ শতাংশের ঘরে চলে আসে। অর্থাৎ গত ২১ দিন ধরে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে কভিডে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ জনে। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ২৭৭ জনের। একই সময়ে দেশে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ৬০৩ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
নতুন রোগী শনাক্ত, মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা কমেছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে (১৩-১৯ সেপ্টেম্বর) তার আগের সপ্তাহের (৬-১২ সেপ্টেম্বর) চেয়ে করোনায় রোগী শনাক্ত, মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা কমেছে। তবে বেড়েছে নমুনা পরীক্ষা। এই সময়ে মৃত্যু কমেছে ২০ দশমিক ১১ শতাংশ। গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় রোগী শনাক্তের হার কমেছে ২৩ শতাংশ। রোগী সুস্থ হওয়ার হার কমেছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে অবশ্য পরীক্ষার হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে মৃত্যু বেশি : গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা (মহানগরসহ) বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এদিন এ বিভাগে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১০ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, খুলনাতে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি বরিশাল ও রংপুর বিভাগে কোনো মৃত্যু হয়নি। মৃত ২৬ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১, বেসরকারি হাসপাতালে ৪ এবং বাড়িতে ১ জন মারা যান।
দেশের ৫১ জেলায় মৃত্যু নেই : সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ জেলায় করোনায় কোনো মৃত্যু হয়নি। বিভিন্ন জেলার মধ্যে শরীয়তপুর ও সিলেট জেলায় ২ জন করে এবং ৯ জেলায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন আর নারী ১০ জন। এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেছেন ১৭ হাজার ৫৩৯ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর নারী মারা গেছেন ৯ হাজার ৭৩৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আটজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।
অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৩৮ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭১৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১০৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৪ হাজার ১০২ জন।
