বিশ্বজুড়ে টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভ্যাক্স’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ ৮৯ লাখ ডোজ কভিড টিকা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে ৭১ লাখ ডোজ ফাইজার (যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান) এবং ১৮ লাখ ডোজ মডার্না (কোভ্যাক্সের নিয়মিত বরাদ্দ) টিকার বরাদ্দ পেয়েছি। চলতি বছরের শেষে টিকাগুলো পাঠানো হবে।’
নিউ ইয়র্ক সফরে থাকা প্রতিমন্ত্রী নিজের ফেইসবুক পেজে গতকাল বুধবার দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে টিকার আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও কোভ্যাক্সকে ধন্যবাদ।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ৩১ মে রাতে প্রথম চালানে ফাইজার-বায়োএনটেকের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আসে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর কোভ্যাক্সের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। এ নিয়ে এই ওষুধ কোম্পানির ১১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা এসেছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজসহ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৪৭৩ ডোজ। বর্তমানে মজুদ আছে ১০ লাখ ১৯৭ ডোজ টিকা। পাশাপাশি মডার্নার ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ২০০ ডোজ টিকা এসেছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজসহ দেওয়া হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৬ ডোজ। বর্তমানে মজুদ আছে ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৪ ডোজ টিকা।
ঢাকা মেডিকেলে প্রবাসীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু : সংকট থাকায় প্রবাসীদের ফাইজারের টিকাদান বন্ধ ছিল। প্রবাসীরা বেশ কিছুদিন ধরে ফাইজারের টিকা নিতে না পেরে আন্দোলন করে আসছিলেন। প্রবাসী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল থেকে আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ফাইজারের পাশাপাশি সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ এবং মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া চলমান রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফাইজারের ভ্যাকসিন (প্রথম ডোজ) নিয়েছেন ৪২৬ জন, সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮৬৫ জন এবং মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪২ জন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে দুটি টিকাকেন্দ্রের মধ্যে একটি চালু রয়েছে। নিবন্ধনকৃতদের মধ্যে যারা এসএমএস পেয়েছেন, তারা ব্যতীত কেউ টিকা নিতে পারবেন না। প্রবাসীদের অনেকেই ফাইজারের প্রথম ডোজ নিতে পেরে আনন্দিত।’
