রাস্তায় সাইড না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর

এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এমপি রিমন!

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৯ এএম

বরগুনার পাথরঘাটায় সড়কে নিজের মোটরসাইকেল বহর আগে যেতে না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের শেখ রাসেল স্টেডিয়াম মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আর ব্যবসায়ী নজরুলকে শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হননি সাংসদ রিমন। মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে সাংসদ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মারধরের শিকার নজরুল ইসলাম পাথরঘাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও স্থানীয় যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার পাথরঘাটা শেখ রাসেল স্টেডিয়াম মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। বিকেল ৪টার দিকে মোটরসাইকেলের একটি বহর নিয়ে সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন সাংসদ শওকত হাচানুর  রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী ছিল। মাঠের  কাছাকাছি পৌঁছালে খেলোয়াড়বাহী একটি মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল বহরের সামনে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির মধ্যে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসা ছিলেন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। ওই সময় হর্ন বাজিয়েও সাইড না পাওয়ায় (আগে যেতে না দেওয়ায়) বহরের একটি মোটরসাইকেলে থাকা সাংসদ রিমন ক্ষিপ্ত হন। এরপর টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠানের মঞ্চে আসন গ্রহণের পর নজরুলকে ডেকে পাঠান তিনি। নজরুল সেখানে গেলে মোটরসাইকেল বহরে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে সাংসদের পায়ে ধরে মাফ চাইতে বলে। এরপর সাংসদের দিকে এগিয়ে যেতেই মাঠভর্তি দর্শক, খেলোয়াড় ও অতিথিদের সামনেই নজরুলকে চড়-থাপ্পড় দিতে শুরু করেন সাংসদ রিমন।

নজরুল বলেন, ‘মূলত আমি প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নাদিরা সবুরের হয়ে শোক দিবস উপলক্ষে ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছিলাম। তিনি আমাকে মেরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের মিটিয়েছেন।’

প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে জানাতে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গতকাল বিকাল ৫টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ও (ব্যবসায়ী নজরুল) একটা বেয়াদব। আমি বারবার সাইড চাইলেও আমাকে সাইড দেয়নি। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারত তাই আমি ওকে দুটি চড় মেরেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত