টুঙ্গিপাড়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ভাসমান বেডে আবাদ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৮ পিএম

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাসমান বেডে চাষবাস। উপজেলার কৃষকরা এ পদ্ধতিতে সবজি ও মসলার চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বন্যাবাড়ী, মিত্রডাঙ্গা, জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, চাপরাইল, রুপাহাটিসহ পাটগাতী ও বর্ণি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ কৃষক করেছেন ভাসমান বেডে চাষাবাদ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে কৃষি বিভাগের ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে আধুনিক পদ্ধতিতে ভাসমান বেডে চাষাবাদ শুরু হয়। প্রথমে গোপালপুর ইউনিয়নের অল্প কিছু কৃষক মাত্র ২০ হেক্টর জমিতে এই চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮০০ কৃষক ভাসমান ধাপের চাষাবাদ করছেন। এ বছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাসমান বেড তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস আরও জানিয়েছে, আগে কৃষকরা ভাসমান বেড ইচ্ছামতো লম্বা-চওড়া করতেন। আর বেডের ওপর উঠেই পরিচর্যা করতেন। ফলে বেডগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক উপায়ে  চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। নির্দিষ্ট চওড়া ও দৈর্ঘ্যরে বেড নির্মাণ করে, সুন্দর করে সাজিয়ে রাখাসহ পরিচর্যা ও ফসল তোলার জন্য ডিঙি নৌকা ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। এতে দ্রুত ফসল নষ্ট হচ্ছে না ও দীর্ঘ সময় ভাসমান বেডে চাষাবাদ করতে পারছেন। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় পানিতে চাষাবাদের শেষে ভাসমান ধাপের কম্পোস্ট বা জৈব সার উঁচু জায়গায় তুলে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে শীতকালীন সবজিতে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হচ্ছে না। এতে শতভাগ নিরাপদ সবজি উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন কৃষক।

বন্যাবাড়ী গ্রামের কৃষক শ্রীবাস বিশ্বাস, বরেন্দ্রনাথ মন্ডল, মিত্রডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নৃপেণ বিশ্বাস, জোয়ারিয়া গ্রামের নরোত্তম বালা বলেন, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ জমি নিচু। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ জন্য স্বাভাবিক চাষাবাদ সম্ভব হয় না। জমিতে পানি জমে থাকায় আমাদের হাতেও কোনো কাজ থাকে না। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে অল্প কিছু কৃষক ভাসমান বেডে চাষাবাদ শুরু করি। পরে স্বল্প খরচে আমরা বেশ লাভের মুখ দেখি। তখন অন্যান্য কৃষক ভাসমান ধাপের ওপর চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়। আগে শুধু গোপালপুর ইউনিয়নে ধাপের ওপর চাষাবাদ শুরু হলেও বর্তমানে পাটগাতী ও বর্ণি ইউনিয়নে ধাপের ওপর চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, আগামীতে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ আরও জনপ্রিয় উঠবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত