করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে সারা বিশ্বে আরও ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ওষুধ প্রশাসনের (সিডিসি) তথ্য বলছে, গত জুন-জুলাই মাসেই এ সংখ্যা তিনশোর কোটায় নেমেছিল। এই হিসাবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বাড়তি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মৃত্যু সাত লাখ ছাড়িয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৬১ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে করোনা থেকে সেরে উঠেছে ২০ কোটি ৮০ লাখ ৮২ হাজার ১০২ জন।
করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৯১ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ লাখ ২ হাজার ৯৭৮ জন।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৩ জনের। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৯ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৮ জন মারা গেছে।
এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, ইরান, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন ও ইতালি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।
সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। অবশ্য ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থা আবারও খারাপ হচ্ছে।
