চার অপহরণকারীকে হত্যার পর ক্রেনে ঝুলাল তালেবান

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১৪ এএম

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চার ‘অপহরণকারী’ নিহত হওয়ার পর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়েছে তালেবান বাহিনী। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান। খবর এএফপির।

হেরাতের ডেপুটি গভর্নর মাওলাউই শির আহমেদ মুহাজির জানান, তাদের লাশ বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে প্রদর্শন করা হয়। অপহরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এই ‘শিক্ষা’ দিতেই এমনটা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রাফিক ইমেজে দেখা গেছে, একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে লাশগুলো রাখা। সেখানে ক্রেন দিয়ে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা। ট্রাকটির চারপাশে ছিল তালেবানের সশস্ত্র যোদ্ধারা। আর তা দেখতে ভিড় করে সাধারণ মানুষ। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্রেনে ঝোলানো একজনের বুকে ‘অপহরণকারীদের এমন শাস্তিই হবে’ এমন বার্তা সাঁটানো ছিল।

গত ১৫ আগস্ট তালেবানে দেশটির দখল নেওয়ার পর এই প্রথম এমন কঠোর শাস্তির ঘটনা ঘটল। আর এর মধ্য দিয়ে মনে করা হচ্ছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাহিনীটি ক্ষমতায় থাকার সময় যে কট্টরপন্থা অবলম্বন করেছিল, তা এখনো বহাল রাখবে তারা।

মুহাজির বলেন, ‘শনিবার একজন ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে খবর আসে। এরপরই পুলিশ শহর থেকে বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয় এবং তালেবান একটি তল্লাশিচৌকিতে কয়েকজনকে আটকালে সেখানে দুপক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।’

মুহাজির এএফপির কাছে পাঠানো এক রেকর্ড বার্তায় বলেন, ‘কয়েক মিনিটের ওই বন্দুকযুদ্ধে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারী নিহত হয়।’

এক ভিডিও ক্লিপে তিনি বলেন, ‘আমরা (আফগানিস্তান) ইসলামি আমিরাত। আমাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’

আজকের এ ঘটনার আগেও বেশ কয়েকটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তালেবান একটি ছেলেও উদ্ধার করেছে। পৃথক এক অপহরণের ঘটনায় এক অপহরণকারী নিহত ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরেকটি ঘটনায় তালেবান ব্যর্থ হয়েছে এবং অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায় করতে সক্ষম হয়।

মুহাজির বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে আমরা হেরাতে থাকার পরও এখানকার লোকজন অপহরণের শিকার হচ্ছে। তাই অন্য অপহরণকারীদের কাউকে অপহরণ বা হয়রানি না করতে এই শিক্ষা দেওয়া হয়। চুরি, অপহরণ বা আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে কিছু করলে শাস্তি পেতে হবে।’

নিজেদের যোদ্ধাদের তিরস্কার করল তালেবান : কাবুল দখলের পর থেকে রাজধানীসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতাসীন তালেবান বাহিনীর যোদ্ধারা সহিংসতাসহ নানা অসদাচরণ করছে বলে অভিযোগ আসছে। এসব অভিযোগের জেরে তালেবান যোদ্ধাদের তীব্র তিরস্কার করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব। যেসব যোদ্ধা অসদাচরণের সঙ্গে যুক্ত, তাদের অবিলম্বে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার এক অডিও বার্তায় মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, ‘তালেবান বাহিনীতে কিছু দুর্বৃত্ত ও সাবেক সরকারের কুখ্যাত সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য যোগ দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারা সহিংস কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।’

অভিযুক্ত ওইসব যোদ্ধাকে অবিলম্বে চিহ্নিত ও বাহিনী থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তালেবান কমান্ডারদের উদ্দেশে মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, ‘তালেবান নেতাদের অনুমতির তোয়াক্কা না করে তারা এসব সহিংসতা ও ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার করে যাচ্ছে। বাহিনী থেকে অবিলম্বে তাদের বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় তোমাদের (কমান্ডার) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেশের সব প্রদেশ দখলের পর গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করেছে তালেবান বাহিনী। একটি নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভাও গঠন করেছে তারা। কিন্তু ক্ষমতা দখলের পর থেকে বাহিনীর যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে সময়ে সময়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন তালেবান নেতারাÑ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বার্তায় এই ব্যাপারটি আরেকবার স্পষ্ট হলো। এর আগে গত আগস্টে তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহিন যোদ্ধাদের অসদাচরণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কাবুলের কিছু বাসিন্দা সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহলে থাকা তালেবান যোদ্ধারা তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে।

তালেবান নেতারা ক্ষমা ঘোষণা করার পরও সাবেক আফগান সরকারের সদস্য, সেনা ও নাগরিক সমাজের কর্মীদের ওপর তালেবান যোদ্ধাদের প্রতিশোধ হামলার খবর পাওয়া গেছে। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াকুব শুক্রবারের অডিও বার্তায় জানিয়েছেন, অবৈধভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন খবর পাওয়া গেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলে আবারও সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আফগানিস্তানের নাগরিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে। কাজেই আক্রোশ মেটাতে কোনো মুজাহিদের কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত