যুক্তরাজ্যে হাজারো মানুষের মৃত্যু অন্য রোগে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩০ পিএম

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত সবকিছুর নজর এখন করোনাকেন্দ্রিক। আর এর মধ্যেই দ্বিতীয় একটি স্বাস্থ্য সংকট ঘনীভূত হচ্ছে সেখানে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর এসব মৃত্যুর জন্য করোনাভাইরাস দায়ী নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। শীতের মৌসুমে নানা কারণে মৃত্যুহার অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মে সাধারণত মৃত্যুহার কম থাকে। তবে এ বছরের সার্বিক পরিস্থিতি অন্যরকম যাচ্ছে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাইয়ের পর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৯ হাজার ৬১৯ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশের মৃত্যু করোনায় আক্রান্ত হয়ে নয়, বরং অন্য কোনো কারণে হয়েছে। এই যে অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হলো তাদের মৃত্যু যদি করোনার কারণে না হয়ে থাকবে, প্রশ্ন উঠেছে তাহলে তাদের মৃত্যু হলো কোন কারণে।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার হাজার মৃত্যুর জন্য দায়ী নানা ধরনের হৃদরোগ ও স্ট্রোক। আর বাকিরা মারা গেছে অন্যান্য নানা রোগে। এছাড়া জুলাইয়ের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের তথ্যও বেশি পাওয়া গেছে ডেথ সার্টিফিকেটে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, মূত্রনালির রোগ, লিভার জটিলতায় ও ডায়াবেটিসের কারণে।

এ ধরনের নানা জটিলতার রোগ নির্ণয়ই আসলে ২০২০ সালে কম হয়েছে। রোগ নির্ণয়ের হারে এত বড় পতন এর আগে দেখা যায়নি। মূলত গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন মহামারীকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার যে তথ্য দিয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞ নয় এমন চিকিৎসকের পরামর্শ ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ২ কোটি ৩০ লাখ কম মানুষ নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে বহু মানুষ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হলেও সেসব রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। মহামারীর শুরু থেকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) ব্যস্ত থেকেছে করোনা মোকাবিলায়। এজন্য তাদের বারবার সতর্কও করা হয়েছে যে, অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেই ১৮ মাসের দেরির খেসারত হয়তো এখন দিতে হচ্ছে যুক্তরাজ্যকে। একজন চিকিৎসক বলছেন, এখন দেখা যাচ্ছে যে রোগীরা হাসপাতালে আসছে, তাদের অবস্থা গুরুতর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত