কাগজের সুনিপুণ শিল্প ‘অরিগ্যামি’

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪১ পিএম

জাপানের ঐতিহ্যবাহী কাগজ ভাঁজ করা শিল্পের নাম অরিগ্যামি। অনেক আগে থেকে অরিগ্যামির ব্যবহার হলেও বিশ্বজুড়ে এর পরিচিতি বেড়েছে আকিরা ইয়োশিযাওয়ার মাধ্যমে। অরিগ্যামির আধুনিক অনেক মডেলের আবিষ্কারক তিনি। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

অরিগ্যামি

অরিগ্যামি ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটা নিয়ে নির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি। এ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন অরিগ্যামির শুরু চীনে। কারণ ১০৫ খ্রিস্টাব্দের পর চীনে কাগজ তৈরি হয়েছিল। তাই ভাঁজ বিন্যাসের শুরুও সেখানেই। তবে চীন যে অরিগ্যামির আবিষ্কারক দেশ সে নিয়ে তথ্য খুব বেশি নেই। অন্যদিকে, ষষ্ঠ শতকে জাপানে কাগজের ব্যবহার শুরু হয়। জাপানিরাই প্রথম আবিষ্কার করে যে কাগজও শিল্পের একটা মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কাগজ ভাঁজ করার রীতি বেশ আগে থেকে শুরু হয়েছিল।

অরিগ্যামি শুরুতে পরিচিত ছিল ‘অরিকাটা’ নামে। ১৮৮০ সালের দিকে অরিকাটা পরিচিতি পায় অরিগ্যামি নামে। ‘অরিগ্যামি’ শব্দটি এসেছে অরু (ভাঁজ করা) এবং কামি (কাগজ) থেকে। কেন এমন নাম বাছাই করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ অবশ্য জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন সহজে শিখতে পারে সেজন্য এমন শব্দ বেছে নেওয়া হয়েছিল।

একটি বর্গাকার কাগজকে কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়া নানা ভাঁজে ভাঁজ করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি জিনিসের আকৃতি প্রদান করাই অরিগ্যামি। আধুনিক অরিগ্যামিতে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া, আঠার ব্যবহার এমনকি কাগজে কোনো মার্কিং করাকেও অনুৎসাহিত করা হয়। জাপানে ঠিক এমনই আরেকটি শিল্প আছে, যাকে ‘কিরিগামি’ বলা হয়।

অভিজাত থেকে সাধারণ

কাগজ বেশ সহজলভ্য একটি শিল্পমাধ্যম। এ কারণে অনেকেই এখন কাগজ ভাঁজ করে অরিগ্যামি শেখার প্রতি আগ্রহী হয়েছে। প্রথম যখন অরিগ্যামি চর্চা করা হয়, তখন এটি শুধু অভিজাতদের জন্য ছিল। জাপানি সন্ন্যাসীরা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নানা আকৃতির অরিগ্যামি বানাতেন। আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন আয়োজনেও অরিগ্যামির উপস্থিতি ছিল। যেমন বিয়ের আয়োজনে কাগজের প্রজাপতি ভাঁজ করে ডেকোরেশন করা হতো। আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে অনুষ্ঠানে কাগজ দিয়ে উপহার মোড়ানোর একটি রীতি চালু আছে জাপানে। একে বলা হয় সুতসুমি। সততার প্রত্যয়নপত্র হিসেবে অনুষ্ঠানে ভাঁজ করা কাগজের টুকরো দেওয়ারও প্রচলন রয়েছে। এর নাম সুকি। অভিজাত দল থেকে কাগজ ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী হতে থাকে। একে অন্যকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য নানা আকারের অরিগ্যামি, ভাঁজ করা কার্ড অথবা খাম জনপ্রিয়তা পায় সবার কাছে। উপহার ছাড়াও শিক্ষণীয় উপাদান হিসেবে অরিগ্যামির ব্যবহার হতে থাকে। অরিগ্যামির মাধ্যমে গণিত শেখা যায় এমনটি প্রমাণ হওয়ার পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।

১৭৯৭ সালে আকিসাতো রিতোর লেখা অরিগ্যামির প্রথম বই ‘সেমবাজুরু অরিকাটা’ (অর্থ : হাজার পাখি ভাঁজ করা) প্রকাশিত হয়। এ বইয়ে অরিগ্যামির ধারাবাহিক রীতির চেয়ে সাংস্কৃতিক রীতিই বেশি ছিল।

সাদাকো সাসাকি

জাপানি সংস্কৃতিতে সারস পাখিকে মঙ্গলজনক মানা হয়। জাপানে একটি ঐতিহ্যবাহী গল্প প্রচলিত আছে। বলা হয়, যদি কেউ এক হাজারটি সারস পাখি বানাতে পারে তাহলে তার যেকোনো ইচ্ছা পূরণ হয়। এ পাখির অরিগ্যামিকে শান্তির প্রতীক বলা হয় জাপানি কিশোরী সাদাকো সাসাকির জন্য।

জাপানের হিরোশিমায় বোমা হামলার শিকার হয়েছিল সাসাকি। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও সে আক্রান্ত হয় লিউকোমিয়ায়। ১৯৫৫ সালে ১২ বছর বয়সে ধীরে ধীরে সাসাকি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সাসাকির বন্ধু তাকে একজন কিংবদন্তির গল্প বলে যে এক হাজার সারস পাখির অরিগ্যামি বানানোর পর বেঁচে গিয়েছিল। সাসাকি গল্পে কতটুকু বিশ্বাস করেছিল তা জানা না গেলেও অন্য শিশুদের মারা যেতে দেখে সিদ্ধান্ত নেয় এত সহজে সে হার মানবে না। সে চেয়েছিল, তার বানানো পাখিতে যদি সবাই বেঁচে যায় তাহলে সে একা এক হাজার পাখি বানাবে। ৬৪৪টি পাখি বানানোর পর সাসাকি মারা যায়। তার বন্ধুরা সাসাকির স্মরণে বাকি পাখিগুলো বানানোর কাজ শেষ করে। হিরোশিমা পিস মিউজিয়ামে সাসাকি ও তার পরিবারের স্মরণে এই পাখি রাখা আছে। বন্ধুদের বানানো অসংখ্য পাখির অরিগ্যামি দিয়ে সাসাকিকে মাটি দেওয়া হয়। হিরোশিমা পিস পার্কে সাসাকির একটি মূর্তি আছে। সাসাকিকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর তার মূর্তিতে প্রায় এক কোটি সারস পাখির অরিগ্যামি দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাপানি ভাষায় হাজার হাজার কাগজ একত্র করে সারস পাখি বানানোর পদ্ধতিকে বলা হয় সেনবাজুরু।

সাসাকির গল্প নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে, বানানো হয়েছে সিনেমা। সাসাকোকে নিয়ে অনেক গল্প আছে যেখানে কাল্পনিক ঘটনার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এসব কাল্পনিক ঘটনা দূর করার জন্য তাকে নিয়ে ইংরেজিতে বই লিখেছেন সাসাকির বড় ভাই মাশাহিরো সাসাকি।

আকিরা ইয়োশিযাওয়া

১৬০৩-১৮৬৭ সময়কে ঐতিহ্যবাহী জাপানি অরিগ্যামির সময় ধরা হয়। বিশ শতকের আগ পর্যন্ত এই অরিগ্যামি শিল্প আলাদাভাবে শুধু চীন, জাপান ও ইউরোপে ছিল। ১৮৬০ সালের দিকে জাপান তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয় আধুনিকায়নের জন্য। ধীরে ধীরে ইউরোপের অরিগ্যামির কৌশল ঢুকে পড়ে জাপানিদের মধ্যে, সেখানে নানা বিধিনিষেধ চলে আসে। ১৯০০ সালের গোড়া থেকে আকিরাসহ বেশ কয়েকজন নামকরা অরিগ্যামি শিল্পী অরিগ্যামির প্রাচীন সব কলাকৌশল সংরক্ষণ করা শুরু করেন।

আকিরা ইয়োশিযাওয়াকে বলা হয় ‘অরিগ্যামির গ্র্যান্ডমাস্টার’। ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন আকিরা। ছোট থেকেই অরিগ্যামির প্রতি তার ভালো লাগা ছিল। অল্প বয়সেই অনেক অরিগ্যামির জটিল বিন্যাস শিখে ফেলেন তিনি। ২০ বছর বয়সে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শুরু করেন। সেখানে কর্মচারীদের নিজেদের কাজ সম্পন্ন করার জন্য জ্যামিতিক কিছু কাজ করতে হতো। তাদের জ্যামিতি বোঝাতে গিয়ে অরিগ্যামির বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতেন আকিরা। ১৯৫৪ সালে, আকিরা প্রকাশ করেন ‘আতারাশি অরিগ্যামি গেইজুতসু’ (অর্থ : অরিগ্যামির নতুন ধরন)। এ বইয়ে আলোচনা করা বিভিন্ন প্রতীক ও গাণিতিক মাধ্যম এখন ব্যবহার করা হয় অরিগ্যামি বানানোর জন্য। মূলত এর মাধ্যমেই আকিরা অরিগ্যামি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন। বিশ্বজুড়ে অরিগ্যামির কৌশল শেখানোর জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন। আজীবন জাপানের ‘কালচারাল অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছেন।

২০০৫ সালে মৃত্যু হয় আকিরার। তিনি তার জীবনে প্রায় ৫০ হাজার বিভিন্ন আকৃতির অরিগ্যামি তৈরি করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাত্র ১০০টি মডেল অফিশিয়ালি অরিগ্যামি বইগুলোতে প্রকাশ করা হয়। ‘ওয়েট ফোল্ডিং’, ‘যোশিসাওয়া-র‌্যান্ডলেট ডায়াগ্রাম কৌশল’সহ নানা ধরনের কলাকৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে অরিগ্যামির এক নবযুগের সৃষ্টি করেছিলেন আকিরা। তাকে নিয়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে একটি বই প্রকাশ করা হয়।

চীন

১০৫ খ্রিস্টাব্দে চীনে কাগজ আবিষ্কার হয়। কাগজ ভাঁজ করার পদ্ধতি আবিষ্কার হয় এরও বেশ কিছু সময় পরে। চীনে এ পদ্ধতির নাম ‘ঝেঝি’। ৯০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে, চীনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে কাগজ স্ট্যাপল করে এক ধরনের নকশা করা হতো। একে বলা হয় ‘ইউয়ানবো’ অথবা ‘গোল্ড নাগেটস’। এটি বানাতে শুধু ব্যবহার করা হতো সোনালি অথবা হলুদ কাগজ। অনুষ্ঠানের শেষে কাগুজে নকশাগুলো আগুনে ছুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হতো।

ধীরে ধীরে পেপার ভাঁজ করা নিয়মিত একটি অভ্যাস হয়ে ওঠে। জাপানি অরিগ্যামির মতো আধুনিক চীনেও কাগজ দিয়ে জড়বস্তু (যেমন নৌকা, বক্স) বানানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

ইউরোপ

১৭ শতকের দিকে ইউরোপ জুড়ে পেপার ভাঁজ করা শুরু হয়। শুরুতে এ এলাকায় কাগজ ভাঁজ করা হতো ন্যাপকিন ভাঁজের অনুসারে। জাপানি অরিগ্যামির মতো ন্যাপকিনের ভাঁজগুলোও বিভিন্ন নিয়ম ও কৌশল মেনে করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাতের ডিনার পার্টি থেকে শুরু করে স্কুলে প্রবেশ করে অরিগ্যামি।

জার্মানির ফ্রেডরিক উইলহেম অগাস্ট ফ্রবেল আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের যে আলাদা চাহিদা ও ক্ষমতার প্রয়োজন আছে সে বিষয়ে জানান। কিন্ডারগার্টেনের আইডিয়া ফ্রেডরিকেরই আবিষ্কার। শিক্ষামাধ্যমে বিভিন্ন খেলনা যুক্ত করেন তিনি। ফ্রেডরিকই শিক্ষাব্যবস্থায় অরিগ্যামির ব্যবহার শুরু করেন। ‘বানাও ও শেখো’ এ পদ্ধতি মেনে শিক্ষার্থীদের শেখানোতে আগ্রহী ছিলেন তিনি। অরিগ্যামির করা শিশুরাই মহাদেশ জুড়ে শিল্পের নতুন এ ধারাকে পরিচিত করে তোলে ও ছড়িয়ে দেয়।

সুইজারল্যান্ডের অরিগ্যামি হাতি

বিশাল আকৃতির অরিগ্যামি তৈরি করে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন শিল্পী সিফো মাবোনা। ৩৭ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডের এই শিল্পী তার মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ দেখিয়েছেন কাগজ দিয়ে বিশাল আকৃতির হাতি তৈরির মাধ্যমে। বিশাল এক কাগজের পাত ভাঁজ করে তিনি এই অসাধ্যসাধন করেছেন। কাগজের মাপ ছিল ১৫ মিটার ঢ ১৫ মিটার। বিশেষ অর্ডার দিয়ে এই কাগজ তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মাবোনা তার তিন সহকর্মী মিলে এক মাস পরিশ্রম করে এই হাতিটি ভাঁজ করেছেন। আমস্টারডামের ট্রপিক্যাল মিউজিয়ামের জন্য ২১টি সুবিশাল কাগজের পাখি তৈরি করেছেন মাবোনা। এ ছাড়া একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার জন্য কাগজ দিয়ে আস্ত আবাসিক এলাকা তৈরি করে অরিগ্যামি জগতে সম্মান কুড়িয়েছেন তিনি।

গাণিতিক অরিগ্যামি

গাণিতিকভাবেও যে অরিগ্যামি করা যায় তার কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন আকিরা। পরে বিজ্ঞানের অনেক কাজে অরিগ্যামি সাহায্য করে। টেকনিক্যাল অরিগ্যামিকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ‘অরিগ্যামি সেক্কেই’, যা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। কোনো কিছু বানানোর আগে তার একটি প্যাটার্ন তৈরি করার পাশাপাশি সেখান থেকে ত্রুটি বের করতেও এই টেকনিক্যাল অরিগ্যামির প্রয়োজন হয়।

ওয়েট ফোল্ডিং অরিগ্যামি

ওয়েট ফোল্ডিং অরিগ্যামিও আবিষ্কার করেছিলেন আকিরা ইয়োশিযাওয়া। অন্যান্য অরিগ্যামির থেকে এটি একটু ভিন্ন, কারণ এটি ভেজা কাগজ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। হোয়াং তিয়েন কুয়েত বর্তমানে অরিগ্যামির এ ঘরানার অন্যতম একজন শিল্পী। তার বানানো বেশ কিছু শিল্পকর্ম নিয়ে জার্মানি, ফ্রান্স, জাপানসহ নানা দেশে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অরিগ্যামি নিয়ে তার লেখা দুটো বইও আছে।

ক্ষুদ্র অরিগ্যামি

জার্মানির আনিয়া মার্কেভিচ ক্ষুদ্র অরিগ্যামির জন্য বিখ্যাত। তার তৈরি অরিগ্যামির প্রস্থ ১ ইঞ্চির থেকেও ছোট। এই মজার অরিগ্যামি দেখার জন্য দৃষ্টিশক্তি প্রখর হতে হবে।

টিস্যু পেপারের কিং কোবরা

বিশেষভাবে তৈরি করা টিস্যু পেপার দিয়ে বানানো হয়েছে কিং কোবরা। এর নকশাকার রোনাল্ড কোহ নামের একজন অরিগ্যামি ডিজাইনার। এর পূর্ণরূপ দিয়েছেন অরিগ্যামি আর্টিস্ট ম্যাথিউ জর্জ।

টিস্যু দিয়ে যে এত নিখুঁত কাজ করা যায় চোখে না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। অসংখ্যবার ভাঁজের শৈল্পিক বিন্যাসে সাপের শরীরের গঠন জীবন্ত হয়ে ওঠে। ম্যাথিউ জর্জের কাজের মধ্যে আরও রয়েছে নানা ধরনের পৌরাণিক প্রাণী, পোকামাকড় এবং অদ্ভুত প্রাণী।

ডাইনোসর

রসায়নের মতো কঠিন বিষয়ে লেখাপড়া করলেও শিল্পের প্রতি মনোযোগ একটুও কমেনি এডাম ট্রানের। হাজার হাজার রাসায়নিক বিক্রিয়া, সমীকরণের পাশাপাশি তিনি অরিগ্যামিকেও আপন করে নিয়েছেন। তার ডাইনোসরপ্রীতিও বেশ চোখে পড়ার মতো। অরিগ্যামিকে ভালোবেসে তিনি এই শিল্পকে বেশ সমৃদ্ধ করেছেন। কাগজপ্রেমী এই মানুষটি ভিয়েতনামের অরিগ্যামি গ্রুপেরও একজন সদস্য।

জোয়েল কুপারের ব্যতিক্রমী অরিগ্যামি

অরিগ্যামি জগতে ব্যতিক্রমী এক শিল্পীর নাম জোয়েল। একটি কাগজ ক্রমশ ভাঁজ করে তিনি এক নিমিষেই বানিয়ে ফেলতে পারেন মানুষের মুখ এবং করে ফেলেন চৌখুনি অঙ্কন। এটি মূলত একটি ভাঁজ বা আকৃতি যা পুনরাবৃত্তি করা হয় কোনো ধরনের ওভারল্যাপ ছাড়াই, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘টেসসেলেইট’। শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘টেসেরেস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘চার’। মূলত এর মাধ্যমে একটি বর্গক্ষেত্রকে বোঝানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত