বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভবন তৈরিতে সহযোগিতা করবে সরকার

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৬ পিএম

ভবনে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতে পাইলট প্রকল্পের বিষয়টি জরুরি। সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভবন তৈরিতে সহায়তা করবে। টাকা তেমন কোনো সমস্যা হবে না। বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এমন ভবন তৈরিতে সব রকমের সরকারি সহযোগিতা থাকবে।

গতকাল রবিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ইন পাবলিক বিল্ডিংস’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে কারিগরি বিষয়ে সমাধান ধাপে ধাপে করতে হবে, উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেও ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। জ্বালানি সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে একটা পাইলট প্রকল্প করা যেতে পারে। এর পুরো ব্যয় বহন করবে সরকার। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সুইচ বন্ধ হয়ে যায় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে। এসির তাপমাত্রা যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২৮ ডিগ্রির কম না করা যায়, এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সদস্য ফারজানা মমতাজ বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ভবন নিয়ে স্রেডা নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে। সরকার চলতি বছর ১৫ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে। শুধু আবাসিক খাত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করা গেলে প্রায় ২৯ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

প্রবন্ধে বলা হয়, গণপূর্ত, শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগ মিলিয়ে দেশে প্রায় ৮৫ হাজার সরকারি ভবন আছে। গণপূর্তের ১৪ হাজার ভবনের ২৭৩টি ঢাকায়। ৮০ কোটি থেকে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এই ভবনগুলো থেকে প্রতি বছর ১১ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। এতে বছরে ১১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কার্বন দূষণ।

সভায় উপস্থাপিত সুপারিশগুলো হলো কম্পিউটার ব্যবহারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মোড ব্যবহার, ফ্লুরোসেন্ট টিউবলাইটের বদলে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করতে হবে। সনাতন পদ্ধতির সিলিং ফ্যানের বদলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্যান, পুরনো এসির পরিবর্তে ইনভার্টার প্রযুক্তিসহ এসি ব্যবহার করতে হবে। ভবনগুলোয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কাচ ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে গতানুগতিক অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া একটা সমন্বিত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।

 স্রেডা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ভবনগুলোকে জ্বালানি দক্ষ করা বড় কাজ। প্রাথমিক পর্যায়ে পাবলিক বিল্ডিংকে জ্বালানি দক্ষ করার উদ্যোগ হিসেবে ১২টি ভবনে সমীক্ষা করা হয়েছে। এর আলোকে কাজ চলছে, প্রয়োজনে আরও সমীক্ষা করা হবে।

স্রেডা ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের সহায়তায় আলোচনায় মোল্লাহ আমজাদ  হোসেনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল্লাহিল আজম, বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহরুল হক, গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত