নীল আকাশে, কাশের দেশে একটুখানি শরৎ উৎসব

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৪ পিএম

শরৎ এমন ঋতু যে এসেই বলে, যাই। তবু যেটুকু সময় থাকে, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে জানান দেয়, সে আছে। আর সেই শরৎকে উদ্‌যাপন করতে প্রতিবছর উৎসবে রাঙিয়ে দেয় ‘টুরিস্ট ক্লাব বাংলাদেশ’। এবারও তার হেরফের হয়নি। 

বাংলাদেশের ঐতিহ্য সকলের কাছে পৌঁছে দিতে ‘টুরিস্ট ক্লাব বাংলাদেশ’ ঋতুভিত্তিক উৎসব পালন করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের মতো টুরিস্ট ক্লাব বাংলাদেশ ‘নীল আকাশে, কাশের দেশে শরৎ উৎসব’ উদ্‌যাপন করল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২৪ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই আনন্দ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বসুন্ধরা রিভার ভিউ সংলগ্ন সিংহ নদীর চরে। দিগন্ত জোড়া কাশফুলের প্রান্তরে সবাই কিছু চমৎকার স্মৃতি নিয়ে ফিরল। গান গেয়ে, ঘুড়ি উড়িয়ে, আবিরে রাঙিয়ে, গুচ্ছ কাশফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে অতিথিদের বরণ করেন অভিযাত্রিক সাংস্কৃতিক দল। বসুন্ধরা রিভার ভিউ ঢাকা সংলগ্ন হলেও এখানে এখনো সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই চিন্তা মাথায় রেখে সৃজনশীল ও মননশীল সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অভিযাত্রিক সাংস্কৃতিক একাডেমির অভিষেক ঘটল।

image

বিকেল থেকেই বইছিল ‘মেরিলিন মনরো হাওয়া’। বিভিন্ন জেলা ও ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন অতিথিরা। ছিল অতিথি বরণ ও নানারকম খেলা। পরিচিতি পর্ব শেষে দেশীয় ফল ও দেশীয় মুড়ি, মুড়কি, মুড়ালি দিয়ে চলেছে আপ্যায়ন। অভিযাত্রিক সাংস্কৃতিক একাডেমির কেরানীগঞ্জ শাখার পরিচালক অরুণিত ভোরের নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। আবৃত্তি, গান, নৃত্য, ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে শরৎ বন্দনায় শেষ হয় প্রথম পর্ব। আধুনিক নৌকায় (কায়েকিং) ঘুরে বেড়িয়ে সকলে সমবেত কণ্ঠে  ভাটিয়ালি গান গেয়ে মুখর করেছিল নদীর জল ও নীল আকাশকে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব। নৌভ্রমণ শেষে পদ্মার ইলিশ আর নানা রকম মজার খাবার দিয়ে ভূরিভোজ আর দেশীয় পান দিয়ে হয় সমাপন। এরপর ছবি আঁকা ও পুরস্কার প্রদান।

বিকেলে সবাই মিলে আবার বেরিয়ে পরা হলো কাশের দেশে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কাশফুল। যতদুর চোখ যায় সাদা, আকাশি আর নীলে যেন একাকার হয়ে আছে। আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাকেও ছিল সেই রকম রঙের খেলা। সাদা, আকাশি, নীল, সবুজে যেন এক টুকরো শরৎ জমে ছিল সিংহ নদীর চরে। কনে দেখা আলোয় ছবি তোলা, আড্ডা শেষে কাশের দেশে সূর্যের শেষ আলো ছড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া ছিল উপভোগ্য। কেউ কেউ সেই আলোটুকু ধরে রাখা চেষ্টায় মশগুল হয়ে ছিলেন। 

image

নদী পার হয়ে আবার ‘জলছবির গাঁও’ এ ফিরে লুচি, আলুর দম, আর পাহাড়ি ব্যাম্বু চা! ব্যাস, আর কী লাগে? সন্ধ্যার আহার শেষে লোক গানের আসর জমে উঠেছিল। কিন্তু বাড়ি তো ফিরতেই হয়। পরিতৃপ্তির হাসিটুকু যেন তখনো ঝুলে ছিল নীল আকাশে, সন্ধ্যা তারা হয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত