বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

শিক্ষার্থীর হাতের দুই আঙুল কাটল কে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৫ পিএম

বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীর ডান হাতের দুই আঙুল কেটে ফেলার ঘটনায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি দিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন থেকে এ পর্যন্ত পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র আনোয়ারুল ইসলাম (২২) চার রকম তথ্য দিয়েছেন।

প্রথমে ছিনতাইকারীর হামলার কথা বললেও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এক সপ্তাহ পর বাড়ি ফিরে দাবি করেছেন, টাকা না দেওয়ায় তারই কলেজের সিনিয়র দুই ছাত্র মেসে ঢুকে আঙুল কেটে দিয়েছেন।

আনোয়ারুল নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকউমর পাটারীপাড়ার দিনমজুর নজরুল ইসলামের ছেলে। তার বক্তব্য গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। আনোয়ারুল বগুড়া শহরের চক ফরিদ এলাকার ‘ইঞ্জিনিয়ার’ ছাত্রাবাসে থাকতেন। তিনতলা বাড়ির একটি তলায় পরিবার নিয়ে মালিকও বসবাস করেন।

অন্য দুটি তলা ভাড়া নিয়ে ছাত্রাবাস পরিচালনা করছেন গাইবান্ধার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু। ঘটনার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আনোয়ারুল হাতের আঙুল কাটা অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করেন। এ সময় মেসের অন্য ছাত্র ও বাড়ির মালিক এলে আনোয়ারুল তাদের জানান, সামনের ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে কয়েক যুবক তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে দুটি আঙুল পড়ে যায়। পরে ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ফার্মেসি ও আশপাশে খোঁজ নিয়ে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাননি। হাসপাতালে যাওয়ার পথে অন্য ছাত্রদের কাছে মেসের গেটে তার ওপর হামলার কথা জানান। কিন্তু সেখানেও রক্তের কোনো দাগ পাননি। বক্তব্যে গরমিল পেয়ে মেসের ছাত্ররা বিষয়টি বনানী ফাঁড়িকে জানায়। পুলিশ হাসপাতালে এলে আনোয়ারুল তাদের জানান, কয়েক দফা স্মার্টফোন কেনার টাকা চেয়ে পরিবার থেকে না পেয়ে হতাশা থেকে নিজেই বাথরুমে গিয়ে আঙুল কেটেছেন বলে জানান তিনি।

তবে গত মঙ্গলবার নওগাঁয় ফিরে সাংবাদিকদের কাছে আনোয়ারুল অভিযোগ করেন, ‘আমার কাছে কলেজের দুই বড় ভাই টাকা দাবি করেন। দিতে অস্বীকার করার পর তারা হঠাৎ করে মেসে এসে বাথরুমে নিয়ে মুখে কাপড় গুঁজে দুটি আঙুল কেটে দেন।’ তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। আনোয়ারুলের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে তার মা সাহারা খাতুন রিসিভ করে বলেন, ‘বগুড়ায় থাকাকালে ভয়ে সে হামলাকারীদের বিষয়ে কিছু বলেনি। বাড়ি এসে সত্য প্রকাশ করেছে। আমরা জড়িতদের শাস্তি চাই।’

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, ঘটনা জানার পরই পুলিশ আনোয়ারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য রেকর্ড করে। এখন তিনি ভিন্ন কথা বলায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ছাত্রাবাসের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবার থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত