শনাক্ত বেশি এশিয়ায় মৃত্যু ইউরোপে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫২ এএম

করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত কারণে এই ক্ষতির পরিমাণের ভিন্নতা রয়েছে অঞ্চলভেদে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনারোগী শনাক্ত হয়েছে এশিয়ায়, আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। আর একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও শনাক্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে শনাক্ত হয়েছে ২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে এশিয়ায় ৬ কোটি ৮৫ লাখ ২ হাজার ১১ জন। এরপর ইউরোপে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮১ জন, উত্তর আমেরিকায় ৫ কোটি ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪২ জন, দক্ষিণ আমেরিকায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫২ হাজার ৯৮১ জন, আফ্রিকায় ৮৩ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৪ জন এবং ওশেনিয়ায় শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৮ জন।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। অঞ্চলটিতে মারা গেছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯২ জন। এরপর বেশি মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকায় ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৭ জন, উত্তর আমেরিকায় ১০ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ জন, এশিয়ায় ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন, আফ্রিকায় ২ লাখ ১০ হাজার ২১২ জন এবং ওশেনিয়ায় ২ হাজার ৮৯৪ জন।

এদিকে একক দেশ হিসেবে এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ লাখ ১১ হাজার ২২২ জন। দেশটিতে সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৯৫৪ জন।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯ জনের। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৮১ জন। সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৭ জন।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ কোটি ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫২০ জন মারা গেছে। আর সেরে উঠেছে ২ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৪৩ জন।

তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন ও ইতালি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।

সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। তবে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের করোনা পরিস্থিতি ফের খারাপ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত