স্পিডবোটসহ আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫০ পিএম

সম্প্রতি ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, বরিশালসহ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি আলোচনার ঝড় তোলে। এর মধ্যে একটি ঘটনার সূত্র ধরে স্পিডবোটসহ গ্রেপ্তার হয়েছে আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার বিস্তারিত জানিয়েছে সিআইডি। তারা জানান, একটি ঘটনার সূত্র ধরে আরেকটির রহস্যও উদ্‌ঘাটন হয়।

৬ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টা থেকে পৌনে চারটা পর্যন্ত ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নয়ারহাট বাজারের ১৯টি স্বর্ণের দোকান থেকে সশস্ত্র ডাকাত স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং নগদ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ওই দিনই আশুলিয়া থানায় মামলা হয়।

ঘটনাটি দেশ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করে। তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক চৌকস টিম ডাকাতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ডাকাতিতে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক ডাকাত মো. শাহিন (২৫)-কে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত স্পিডবোটটি মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া বাজার ঘাট হতে জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। তার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ সেপ্টেম্বর মো. দানেশ ফকির (৩৫)-কে মাওয়া ঘাট এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুই ডাকাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুণ্ঠিত স্বর্ণ ও রুপা ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকায় ২৮ সেপ্টেম্বর মো. সুমন মিয়া (২৯)-কে রাজধানীর তাঁতীবাজার থেকে সিআইডির হেফাজতে নেওয়া হয়। এ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরদিন রাতে নয়ারহাট বাজারে ডাকাতির ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী সোহরাব হাওলাদার (৪৮)-কে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে শাহানা, আনোয়ার, দেলোয়ার, সবুজ রায়, রহিম, আল মিরাজ মিন্টু, কামাল, শাহিন শেখ, মো. দানেশ ফকির, মো. সুমন মিয়াকে আদালতে উপস্থাপন করলে তারা আশুলিয়ার ডাকাতির ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এর মধ্যে নয়াবাজার এলাকার আসামি রহিমের ভাড়া বাসা থেকে আশুলিয়ার ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ২০ ভরি স্বর্ণ জব্দ করা হয় এবং শাহানা আক্তারের কাছ থেকে একই ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪০ টাকা ও আনুমানিক ২ লাখ ৮০ টাকা মূল্যের ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

সব মিলিয়ে ডাকাতি মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৫ জন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ১০ জন। এ ছাড়া রাজধানীর রাপা প্লাজা ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার ৪ জনের মধ্যে জবানবন্দি দেয় ৩ জন।

সিআইডি জানায়, নয়ারহাট বাজারের ডাকাতি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে রাপা প্লাজার স্বর্ণের দোকানে চুরির মামলার রহস্যের জট খোলা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার সবুজ রায় ও রহিম জবানবন্দিতে রাপা প্লাজা স্বর্ণের দোকানে চুরিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং সোহরাব ও দেলোয়ারসহ আরও ৩-৪ জনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। স্বীকারোক্তি মোতাবেক ইসলামপুর এলাকায় সবুজের ভাড়া বাসা হতে রাপা প্লাজার চোরাই যাওয়া স্বর্ণ হতে আনুমানিক ১২ ভরি স্বর্ণ গলানো পাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য আনুমানিক ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ওই মামলার সঙ্গে জড়িত মো. ইসমাইল (১৮), মো. মিজানুর রহমান (২৬)-কে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করলে ইসমাইল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে রাপা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় রাজলক্ষ্মী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়। ওই সময় দুষ্কৃতকারীরা দোকানের শাটার ভেঙে  আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত