সাত দিনে চার বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ আত্মহত্যা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৬ পিএম

দেশে সাম্প্রতিক আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন মনোবিদগণ। করোনাকালে জীবন যাপন অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ পরিস্থিতিতে প্রায় সারাদেশেই আত্মহত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। প্রায় সব আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, টানা বিধিনিষেধে ঘরে বসে থাকা, কর্মহীনতা, হতাশা-বিষণ্নতা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর মেলে।

চার শিক্ষার্থী হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইমরুল কায়েস, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) তাহমিদুর রহমান জামিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের (সাবেক) মাসুদ আল মাহাদী (অপু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অমিতোষ হালদার।

রাবি: ইমরুল কায়েস গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরে ঝিকরগাছায় গ্রামের বাড়িতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি রাবির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ইমরুলের সহপাঠীরা সেসময় জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন ইমরুল। ঘটনার কিছুদিন আগে মায়ের কাছে মোটরসাইকেল চেয়েছিলেন তিনি। কিনেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আত্মহত্যার আগে তিনি একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু মধ্যরাতে ক্যামেরা কিনতে যাওয়া যাবে না বলে মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপর ইমরুল দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন।

পাবিপ্রবি: গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে পাবনা শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাহমিদুর রহমান জামিলের (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহীবাগ এলাকায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ সময় তার মরদেহের পাশ থেকে ‘বাবা-মা ক্ষমা করো, গুড বাই’ লেখা চিরকুট পাওয়া যায়।

তাহমিদুরের আত্মহত্যার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, শহরের শালগাড়িয়া মেরিল বাইপাস এলাকার সাফল্য ছাত্রাবাসে থাকতেন তাহমিদুর রহমান জামিল। পারিবারিক কোনো একটি বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তার সাড়া-শব্দ পাননি সহপাঠীরা। একপর্যায়ে কক্ষের দরজা খুলে তাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে থানায় খবর দেন তারা। পরে পুলিশ গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঢাবি: গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকা থেকে মাসুদ আল মাহাদীর (অপু) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। চাঁনখারপুলে ভাড়া বাসায় থাকতেন মাহাদী। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে।

মাহাদীর মৃত্যুর পর তার শিক্ষক ফাহমিদুল হক ফেসবুকে লেখেন, ‘অপুকে ধারণ করার যোগ্যতা সিস্টেমের নেই...মেধাবী ছাত্র ছিল, সত্যিকারের মেধাবী। ফল ভালোও করত। গতানুগতিক ভালো ফল করাদের মতো সে ক্লাসে খুব নিয়মিত ছিল না। সে প্রশ্ন করত, প্রতিবাদ করত। ষাটের দশক কিংবা নিদেনপক্ষে আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেসব শিক্ষার্থী নিয়ে গর্ব করত, যাদের কারণে ছাত্র আন্দোলন বিষয়টা একটা স্বর্ণালি এক রোমান্টিসিজম এখন, অপু ছিল সে ধরনের শিক্ষার্থী।’

জবি: বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অমিতোষ হালদারের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। ভোর ৫টায় গ্রামের বাড়ির পাশের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানার পাটিকেলবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পুলিশের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে, তিনি কেন ও কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। মরদেহ এখন ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত