খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ক’ ইউনিটের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা শেষ হলেও যানজটের কারণে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জিরোপয়েন্ট থেকে গল্লামারী পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পুরোটা সময় যানবাহন চলতে দেখা গেছে। এতে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় গল্লামারী থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত বাস, পিক-আপ ভ্যান, অটোরিকশা, বাইকসহ আরও বিভিন্ন যানবাহন অবাধে চলাচল করেছে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
যশোর থেকে আসা পরীক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান বলেন, পরীক্ষার আগে জানতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু এসে দেখলাম তার বিপরীত।
তিনি বলেন, একদিকে সকালে যশোর থেকে জার্নি করে এসে আবার তীব্র রোদে গল্লামারী থেকে মেইন গেটে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে। গরমে এখন এত ক্লান্ত লাগছে যে কী পরীক্ষা দেব জানি না।
অভিভাবকরাও এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। একজন অভিভাবক বলেন, ‘একটু সময় রাস্তা বন্ধ রেখে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করলে কী এমন ক্ষতি হতো? আমি তো এই ভিড় ঠেলে আসতে গিয়ে এক প্রকার অসুস্থ হয়ে গেলাম।’
আরেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছিলাম। গল্লামারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত আসতেই বেশি সময় লেগে গেছে।’
ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গল্লামারী থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতিবার গল্লামারী থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, যানজটে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও আরও তিনটি পৃথক স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এটা ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ, এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ঢাকায় যেতে যে ভোগান্তি ও আর্থিক ব্যয় হয় তা থেকে এবার তারা পরিত্রাণ পাচ্ছেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
আগামী ২ অক্টোবর ‘খ’ ইউনিট, ৯ অক্টোবর ‘চ’ ইউনিট, ২২ অক্টোবর ‘গ’ ইউনিট এবং ২৩ অক্টোবর ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
