মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য, রেজিস্ট্রার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে শুক্রবার সকাল থেকে অবস্থান ধর্মঘট করছে শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষক ফারহানার স্থায়ী অপসারণ ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ ও রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর অনুরোধে তারা আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নেন।

তবে, অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে ও ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে তারা আবারও ধর্মঘট শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন ও আবু জাফর বলেন, শিক্ষক ফারহানার চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। তাই প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। এটাকে আমরা ষড়যন্ত্র মনে করছি। আমাদের দাবি পূরণ হলেই আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় ফিরেবো। তা না-হলে অবস্থান ধর্মঘট চলবে।

রুখসানা রাফা ও শামীম হোসেন বলেন, শিক্ষক ফারহানার কাছে কেউই নিরাপদ নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই আয়া, ক্লিনার ও কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমন শিক্ষক আমরা চাই না। তার স্থায়ী বরখাস্ত চাই। শিক্ষক ফারহানা মিডিয়ার কাছে মিথ্যাচার করেছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। সিন্ডিকেট যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি মেনে নিয়েছি। তবে কাঁচি হাতে করে ঘোরার ভিডিও দেখানো হলেও চুল কাটার ভিডিও দেখানো হচ্ছে না। এ থেকেই বোঝা যায় এটা একটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ ও রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ ছাত্রে মাথার চুল কাঁচি নিয়ে কেটে দেন রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।

এ ঘটনায় পরের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর নাজমুল হাসান তুহিন নামের এক ছাত্র ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একই দাবিতে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসন।

এদিকে রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিকা ফারহানার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত