সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেনোপজ-পরবর্তী সমস্যা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩ এএম

অনেক নারীর মধ্যেই মেনোপজ নিয়ে একটা চাপা আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তা কাজ করে। চিন্তা না করে এ সময় কী করতে হবে তা জানা জরুরি।

কেন হয়

একজন নারী একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। যেগুলো তার জরায়ুতে সংরক্ষিত থাকে। জরায়ু নারীর শরীরের ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন তৈরি করে। যেটা প্রতি মাসের মাসিক এবং ওভাল্যুশন নিয়ন্ত্রণ করে। যখন জরায়ু থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তখনই মেনোপজ হয়।

মেনোপজের তিনটি ধাপ পেরিমেনোপজ, মেনোপজ ও পোস্ট মেনোপজ। মেনোপজ শুরুর আগের কয়েক বছর সময়কে বলা হয় পেরিমেনোপজ। এ সময় আস্তে আস্তে মেনোপজের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। অর্থাৎ মেনোপজ শুরুর দুই থেকে তিন বছর আগে থেকেই এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে যায়। মেনোপজ হচ্ছে এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এক বছর পর্যন্ত সময়কাল।

লক্ষণ ও করণীয়

 হট ফ্ল্যাশ অর্থাৎ হঠাৎ করে ভীষণ গরম লাগা। সেটা খুব ঠাণ্ডার দিনেও হতে পারে। এর সময়কাল কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে মিনিট দশেক পর্যন্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি খেতে পারেন। একটু ঢিলে সুতির কাপড় পরতে পারেন। এতে হট ফ্ল্যাশ হলেও স্বস্তিতে থাকবেন।

 অনেকের চুল পড়া শুরু হয়। মনে রাখতে হবে চুল পড়াটা স্থায়ী কিছু না। মূলত ইসট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোনের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে চুল পাতলা হওয়া শুরু হয়, যা একেবারে থামানো সম্ভব নয়। তবে স্ট্রেস ফ্রি থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর ডায়েট মেনে চলা, ভিটামিন সাপ্লিমেনট নেওয়া ইত্যাদি চুল পড়ার হার কমিয়ে আনা যায়।

 শরীরে ইসট্রোজেন হরমোনের ঘাটতি থাকে বলে সেরেটোনিন এবং ডোপামিন হরমোনের ইমব্যালান্স দেখা দেয় । ফলে ঘন ঘন মুড বদলাতে থাকে। কারণ হলো এ সময়ের অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তন। যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া ও হট ফ্ল্যাশ। এগুলোর কারণে অনেকেই সারাক্ষণ স্ট্রেসে ভোগেন, যেটা থেকে তুচ্ছ কারণে খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়। নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ম করে হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেস ফ্রি থাকতে পারলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

 শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা, বিশেষ করে হাঁটু, কনুই, আঙুল ও পিঠ এ সময় থেকে শুরু হতে থাকে। তবে মেনোপজ ছাড়াও কারও যদি আথ্রাইটিস, লুপাস ও বারসাইটিসের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এ ধরনের ব্যথা বেশ খারাপ আকার ধারণ করে। স্থায়ী চিকিৎসা নেই। বিভিন্ন ধরনের থেরাপি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এই ব্যথার কিছুটা উপশম করে থাকে।

 মেনোপজের সময়ে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি একটা অন্যতম সমস্যা। এটার কারণে হাঁটু, কোমর এবং পিঠের ব্যথায় ভোগেন অনেকে। তাই চল্লিশের পর থেকেই পরিমিত খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা খুব জরুরি। কেননা, এই ওজন বৃদ্ধির ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

 মেনোপজের সময় মহিলাদের আরেকটা সমস্যা হলো ঘুম না হওয়া বা ঘুম হলেও ঘুম থেকে ওঠার পরও সারা দিন ঘুম ঘুম লাগা বা ক্লান্তি লাগা। ভালো ঘুম হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ঘুমের সময়, উপযুক্ত ব্যায়াম, ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে আনা এই কাজগুলো বেশ ভালো কাজ দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত