রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুস্থদের চাল খেয়ে কোটিপতি যুবলীগ নেতা বেলায়েত!

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৪ এএম

দেশের গ্রামীণ হতদরিদ্রের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল পরিবেশকের (ডিলার) গুদামে বদল হয়ে যাচ্ছে। রাতের আঁধারে সরকারি সিল লাগানো বস্তার ভালো চাল বের করে তাতে ভরা হচ্ছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের চাল। এ চাল একটি ইউনিয়নের ৩৫৯ জন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওই চাল খেতে না পেরে তাদের বেশিরভাগই ফের একই ডিলারের নিয়োগ করা লোকের কাছে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পচা ও নিম্নমানের এ চাল ডিলার সংগ্রহ করে পরে ফের একইভাবে সরকারি বস্তায় ভরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একই সুবিধাভোগীদের কাছে বিক্রি করছেন। আর সরকার হতদরিদ্রদের জন্য যে ভালো চাল দিচ্ছে তা অন্য বস্তায় ভরে বাইরে খোলাবাজারে বিক্রি করছেন ডিলার। এভাবে প্রতি চালানে আসা চাল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন ডিলার। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে নয়ছয়ের এমন ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার মদনের ১নং কাইটাইল ইউনিয়নে। সেখানকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বিল্লাল (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই হতদরিদ্রের চাল চুরি করে বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেছেন বলে ভাষ্য এলাকাবাসীর।

চাল বিতরণের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রেও বেলায়েত অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ড নবায়ন ও নতুন কার্ড দিতে জনপ্রতি নিয়েছেন ৩০০ টাকা। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তা বদল ও খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বেলায়েতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কথোপকথনের সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি অডিও রেকর্ডের ক্লিপ শুনে এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য সরকারি চাল চুরির ঘটনা বেলায়েতের জন্য নতুন নয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে নেত্রকোনার মদনের মুতিয়াখালী বাজার থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় সরকারি বরাদ্দের ৫০০ বস্তা গম পাচারের সময় গমসহ চার শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত (চার্জশিট) একমাত্র আসামি যুবলীগ নেতা বেলায়েত। তবে গম পাচারে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কাইটাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির পদে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। এমনকি এরপরও সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়নি বেলায়েতের।

অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন বলছে, বেলায়েতের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলায়েতের গুদামে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তা বদল করে তা অন্য বস্তায় ভরে খোলাবাজারে বিক্রির কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সময় বেলায়েতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কথোপকথনের কয়েকটি অডিও রেকর্ডের ক্লিপ দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। সেসব অডিও রেকর্ডের চুম্বকাংশ নিচে তুলে ধরা হলো।

গুদামের কর্মচারীর সঙ্গে বেলায়েতের কথোপকথন

বেলায়েত : ‘এহন বস্তাডি বদলাও, বদলায়ে সরকারি বস্তাডি এখান থেকে সরাও। তোমরা তো শাটারডা মেলায়ে পরে যাওগা।’

গুদামের শ্রমিক : ‘না না’।

বেলায়েত : ‘এত সুযোগ-সুবিধা ভালা না। সমস্যা হইতে দুই মিনিট লাগে না। এডি বদলায়া পরে যাও। সরকারি বস্তা রাইখো না। বদলায়া ফেলো।’

সরকারি চালের ক্রেতার সঙ্গে বেলায়েতের কথোপকথন

বেলায়েত : ‘এইডা তো ভালো, যে দাম কইছো। সেইডাতে লইয়া নও। যে বস্তাডি আইবো, সেই বস্তাডি খুইলা এই বস্তাডিতে ভইরা দিয়া দিমু।’

চালের ক্রেতা : ‘গুদাম তো বাইরাইয়া রাস্তায় ঝায় ঝামেলা হইবো না?’

বেলায়েত : ‘রাস্তায় ঝাই ঝামেলা হইলে ধরব তো আমারে।’

চালের ক্রেতা : ‘কইতাছি, বুঝেন না, কার খবর কে লাহে (রাখে)। আঙুল দেওয়ার লোকও তো বহুত আছে। আপনারে যে পাঠায়ছে এইডার বাজার কতো।’

বেলায়েত : ‘এইডা বেচতাছি ২২০০ করে। ২২২০ করে দেওয়া লাগবো পৌঁছায় দিলে। কাঞ্চন নিছে এক গাড়ি। যাইবো, একটু পরে যাইবো। সন্ধ্যায় ট্রাক নিয়া আহেন।’

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাইটাইল ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের ডিলার রয়েছেন দুজন। এদের মধ্যে একজন বেলায়েত। ইউনিয়নের ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৫৯ জন সুবিধাভোগীর কার্ডের বিপরীতে বটতলা বাজারে নিজ গুদাম থেকে এ চাল বিতরণ করেন তিনি। প্রতি কেজি চাল সরকারি গুদাম থেকে সাড়ে ৮ টাকা দরে কেনেন বেলায়েত। একটি কার্ডের বিপরীতে মাসে ৩০ কেজি চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এতে একজন কার্ডধারী ৩০ কেজি চালের জন্য ৩০০ টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু বেলায়েত সরকারি বস্তার ভালো চাল বদলে তাতে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ করায় সেই চাল খেতে পারেন না হতদরিদ্র মানুষরা। পরে তাদের কাছ থেকে ওই খারাপ চাল কৌশলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনে নেন বেলায়েত। এরপর ফের হতদরিদ্রদের জন্য আসা সরকারি বস্তার ভালো চাল নিজ গুদামে বদল করে খারাপ চাল ঢুকিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেন। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে নয়ছয় করে বেলায়েত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ভাষ্য এলাকাবাসীর।

এছাড়া চলতি বছর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে হতদরিদ্রদের জন্য নতুন কার্ড বিতরণ ও নবায়নের জন্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে নিয়েছেন বেলায়েত। কাইটাইল ইউনিয়নে যারা ১০ টাকা কেজির চাল কেনার এ সহায়তা পান তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের। তারা গত কয়েক বছর ধরেই পচা ও নিম্নমানের চাল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশ না করে তারা বলেন, এক মাস অন্তর চাল কেনার সুযোগ পান। ডিলার বেলায়েত তার লোক মারফত এ চাল বিক্রি করেন। সেখানে সরকারি লোকও থাকেন। দুর্গন্ধযুক্ত পচা চাল দেওয়ার বিষয়টি সবারই জানা আছে।

কাইটাইল ইউনিয়নের এক দিনমজুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বটতলা বাজারে ডিলার বেলায়েতের কাছ থেকে চাল কিনি। সে যে চাল দেয় তা খাওয়ার মতন না। সেসব চাল পুরান, অনেক গন্ধ। গরু, মুরগিও এ চাল খায় না।’

তাহলে নিম্নমানের ওই চাল কী করেন জানতে চাইলে ওই দিনমজুর বলেন, ‘সত্যি কথা স্যার তাগোরেই কম দামে দিয়া আহি। ৩০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি করে দিয়ে আহি। সবাই বিক্রি করে দেয়। কারণ চালগুলা তো ভালো না।’ কোথায় বিক্রি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওইহানেই দিয়ে আহি।’

একই ইউনিয়নের ১০ টাকার চাল কেনার সুবিধাভোগী এক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে চাল দেয় তা খাওয়া যায় না, গন্ধ লাগে। এরপরও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে খাই।’ নতুন কার্ড পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কার্ড করতে বেলায়েত ৩০০ টাকা করে নেছে।’

১০ কাটার চাল কেনেন এমন এক কৃষক বলেন, ‘বেলায়েত যে চাল দেয় তা ভালো না, গন্ধ লাগে। খাওয়া যায় না। তাদের কাছেই বিক্রি করে দিই। বেলায়েত অন্য লোক দিয়ে কিনে নেয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলায়েত প্রতি চালানে ৩৫৯ জন কার্ডধারীর জন্য উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ১১ হাজার ৫২০ কেজি চাল বুঝে নেন। উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) রুকসানা বেগমের তত্ত্বাবধানে সরকারি বস্তায় সিল মেরে চাল ডিলারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চাল বদল করে নিম্নমানের চাল বিতরণ করে প্রতি চালানেই কয়েক লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন বেলায়েত। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকার ভাগ স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের অনেকেও পান। এলাকাবাসী বলছে, মাত্র ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চালের ব্যবসায় নেমে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বেলায়েত। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ।

গুদাম থেকে কেমন চাল দেওয়া হয় জানতে চাইলে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুকসানা বেগম গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুদাম থেকে ভালোমানের চাল দেওয়া হয়। চাল ডিলারদের বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বস্তায় সরকারি বিতরণ সিল মেরে দেওয়া হয়।’

কাবিখার গম পাচারের হোতা বেলায়েত

২০২০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে নেত্রকোনার মদন থানার মুতিয়াখালী বাজার থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সরকারি বরাদ্দের ৫০০ বস্তা গম (প্রতি বস্তায় ২৫ কেজি) পাচারের সময় গমসহ চার শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে মদন থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় এসআই মোশাররফ হোসেন ফরাজী বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ২৫ (১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে চলতি বছর ১২ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন। সেখানে একমাত্র আসামি করা হয় বেলায়েতকে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘মো. বেলায়েত হোসেন (পিতা মৃত গোলাম হোসেন) মদন থানাধীন জাহাঙ্গীরপুর বাজারের স্থানীয় ধান ও চাউল ব্যবসায়ী। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বেলায়েত হোসেন বাচ্চু মিয়ার নৌকা ভাড়া করে ৫০০ বস্তা সরকারি গম সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই অঞ্চল থেকে মদন থানাধীন মুতিয়াখালী বাজারে অবৈধভাবে আনে। এই গমের বস্তা তার গোডাউনে নেওয়ার জন্য গাড়িতে লোড করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বেলায়েত বাজার থেকে সরে পড়ে।’

এ প্রসঙ্গে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্তে নেমে বেলায়েতের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গমগুলো তার গুদামে নেওয়া হচ্ছিল। যারা গ্রেপ্তার হয় তারা মূলত শ্রমিক। উচ্চ আদালত থেকে বেলায়েতই তাদের জামিন করায়। এ ঘটনার পর কিছুদিন বেলায়েত তার গুদামটি বন্ধ রাখে।’

আদালতে চার্জশিট জমার পরও বেলায়েতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মদন থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত থেকে কোনো ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তার আদেশ) ইস্যু হলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এ বিষয়ে কোনো কার্পণ্য নেই। আমাদের থানায় বেলায়েতের নামে কোনো ওয়ারেন্ট আদালত থেকে আসেনি।’

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা বেলায়েত হোসেন বিল্লাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের এ কর্মসূচির শুরু থেকেই আমি চাল বিতরণ করি। চালগুলো একদম ফ্রেশ। কোনো খারাপ চাল নেই। যারা চাল নেয় তারা খায় না বিক্রি করে, এগুলো আমার দেখার বিষয় নয়। আমি এসব চাল কিনি না।’

বস্তা বদল করে চাল বাইরে বিক্রিসংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দেশ রূপান্তরের কাছে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো সব ভুয়া কথা। অবাস্তব কথা, এরকম কিছু হয়নি।’

মাথাপিছু ৩০০ টাকা নিয়ে কার্ড নবায়ন ও বিতরণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলায়েত বলেন, ‘কার্ড দেয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এখানে আমার কোনো হাতে নেই।’

৫০০ বস্তা সরকারি গম পাচার মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন করা হয়েছে। মামলার কোনো কাগজপত্র আমি পাই না। আমাকে আসামি করার বিষয়টিও জানা নেই। যেহেতু আমি জানি না, সেহেতু মামলায় কোনো জামিনও নেই নাই।’

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ টাকা নিয়ে কার্ড নবায়ন ও বিতরণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ১নং কাইটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাফায়াত উল্লাহ রয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন কার্ড দেওয়া ও নবায়নের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ওই সময় ব্যক্তিগত কাজে ঢাকাতে ছিলাম। পরে এলাকায় এলে নবায়ন ও নতুন কার্ডধারীদের তালিকাতে স্বাক্ষর করতে বললে আমি করিনি। পরে তালিকা কীভাবে পাস করেছে তাও জানি না।’

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এর আগে অন্য একটি ইউনিয়ন থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছিলাম। তখন সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই বেলায়েতের বিষয়টি আমি আজই শুনলাম। এটা অবশ্যই গুরুতর অন্যায় ও অপরাধ। আমি তদন্ত করে দেখব এবং যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘আমি গোডাউনের চালগুলো দেখেছি। খুবই ভালোমানের ও নতুন চাল। আমরা ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই।’

একইদিন সার্বিক বিষয় অবহিত করে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবদুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এখনই খবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত