ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই রমরমা অবস্থায় আবারও নতুন রূপে হাজির মেধাবী অভিনেতা শ্যামল মাওলা। এবার আর বিদেশের কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়, দেশের প্রথম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপে এসেছে এই অভিনেতার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘টেক্কা’। মেহেদী হাসান টিংকুর নির্মাণে এর গল্প লিখেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন। গ্যাংস্টার ওসমান চরিত্রে দেখা যাচ্ছে শ্যামল মাওলাকে। সেই গ্যাংয়ের সদস্য মৌসুমী হামিদ, সাংবাদিকের ভূমিকায় শবনম ফারিয়া আর ওসি মাহাবুব চরিত্রে সোহেল মন্ডল। আরও অভিনয় করেছেন হাসনাত রিপন, আলমগীর হোসেন, সুমাইয়া কৃতিকা, আইনুন পুতুল প্রমুখ। ট্রেইলারে অবশ্য এই সিরিজের কোনো গল্পই বলা হয়নি। কিছু খন্ড চিত্র দিয়ে দারুণভাবে দর্শককে আকর্ষণ করেছেন নির্মাতা। তিনি জানালেন, গল্পটি মূলত একজন সবজি ব্যবসায়ী থেকে গ্যাংস্টার হয়ে ওঠা ওসমানকে কেন্দ্র করে। মাদক ব্যবসা বিস্তার, গুম, হত্যা, রহস্য, দ্বন্দ্ব, ঢাকাই বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে মতবিরোধ, প্রভাব এ সবই আছে সিরিজটিতে। গুড কোম্পানির নিবেদনে সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক জাকিয়া রাশিদ মিম ও প্রযোজনায় ইরেশ যাকের ও সরদার সানিয়াত হোসাইন। দর্শকের সাড়া কেমন পাচ্ছেন? জানতে চাইলে শ্যামল মাওলা বলেন, ‘রেসপন্স তো বেশ ভালো পাচ্ছি। অন্য একটা প্রজেক্টের শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই এতদিন এটার প্রতি মনোযোগ ছিল না। কিন্তু দর্শকের রেসপন্স দেখেই বুঝতে পেরেছি কাজটি তারা পছন্দ করছেন।’
গ্যাংস্টার চরিত্রে অনেকেই অভিনয় করেন। কিন্তু টেক্কায় শ্যামলের মধ্যে একই সঙ্গে একজন গ্যাংস্টারের ভয়ংকর রূপ যেমন আছে, তেমনি এক ধরনের লাস্যময়তাও ফুটে উঠেছে। শ্যামল বলেন, ‘প্রস্তুত হয়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। এটা একটা অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ ছিল আমার সঙ্গে ডিরেক্টরের। যে এই ক্যারেক্টারটাকে ভেঙে আমরা কীভাবে দাঁড় করাব। পরে তার সঙ্গে আলাপ করেই হোমওয়ার্ক করি। তখনই বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এটা একদমই একটা এক্সপেরিমেন্ট ছিল। আগের চরিত্রগুলো থেকে নিজেকে ভেঙে সেটা কতখানি করতে পেরেছি তা দর্শকই ভালো বলতে পারবেন। যতটুকু শুনেছি, তাতে দর্শক বিষয়টিকে ভালো ভাবেই নিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেইলারে আমরা কোনো গল্প বোঝাতে চাইনি। এটা দেখতে হবে। অনেক টুইস্ট আছে, ম্যাজিক আছে। দেখলে বুঝতে পারবেন।’
একই সময়ে মোশাররফ করিমের ‘দ্য ব্রোকার’, চঞ্চল চৌধুরীর ‘মুন্সিগিরি’, ইরফান সাজ্জাদের ‘আঘাত’ ও শ্যামলের ‘টেক্কা’ এসেছে ভিন্ন ভিন্ন ওটিটিতে। বিষয়টি নিয়ে শ্যামল বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি নিজেকে। আমার এই টেক্কার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে তাদের মতো ভালো ভালো অভিনেতার কাজ এসেছে। একসঙ্গে এতগুলো তারকাবহুল কনটেন্ট মুক্তি পাওয়ায় ব্যবসায়িক দিকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি? শ্যামলের ভাষ্য, ‘এটা বড়দের ভাবার বিষয়। আমি এখন এটা ভাবতে চাই না। তাছাড়া আমার কাজ মন দিয়ে অভিনয়টা করা। সেটার শতভাগ চেষ্টা ছিল। আমি বরং আনন্দিত যে আমার সঙ্গে বড় দুই ভাই ও এক সহকর্মীর কাজ এসেছে। এটা একটা উৎসবের মতোই মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো প্রেশার অনুভব করছি না। কারণ দর্শক ভাগ হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি কাজ আলাদা প্ল্যাটফর্মে এসেছে। দর্শক চাইলে সবগুলোই দেখতে পারেন। প্রতিটি কাজের দৈর্ঘ্যই ছোট, সেইসঙ্গে ওয়েব কনটেন্টের জোয়ারও চলছে। দর্শক সবগুলোই দেখে ফেলতে পারবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের পোস্টের নিচে অনেকে কমেন্ট করেছেন, এটা দেখা শেষ, এটা বাকি। তার মানে তিনটি কাজই টার্গেট করে রেখেছেন তারা।’
সম্প্রতি ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভের জন্য মেহেদি হাসান জনির পরিচালনায় একটি সিঙ্গেল নাটক করেছেন শ্যামল। মারিয়া নূরের সঙ্গে সেই নাটকের নাম ‘হেরে যাওয়ার গল্প’। নজরুল রাজুর নির্দেশনায় জি ফাইভের জন্যই শতাধিক পর্বের একটি সিরিয়ালের কাজও শেষ। নাম ‘এ এমন পরিচয়’। তার সহশিল্পী শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকী, নতুন অভিনেত্রী আয়েশা। মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় বিকাশের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছেন গত সপ্তাহে। এর আগে সুমন ধরের পরিচালনায় চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর সঙ্গে ‘প্যারাসাইকোলজি’ ওয়েব সিরিজটি শেষ করেছেন তিনি।
শ্যামলের সাম্প্রতিক কাজের ফিরিস্তি খেয়াল করলে দেখা যায়, সবগুলোই কোনো না কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের। কদিন আগে নায়িকা পূজা চেরী দেশ রূপান্তরকে মজা করে এই অভিনেতাকে ‘দেশের ওটিটি কিং’ সম্বোধন করেন। তাহলে কি টেলিভিশনের কাজ একদম ছেড়ে দিলেন? এই প্রশ্নে শ্যামল বলেন, ‘তা হবে কেন? আমার কাছে মাধ্যম কোনো বিষয় নয়। যে গল্প ও চরিত্র মনে দাগ কাটে সেটিই করি। হোক টিভি নাটক, ওটিটির কাজ কিংবা সিনেমা। সম্প্রতি ওটিটির জন্যই ভালো ভালো প্রস্তাব পাচ্ছি। তাই এই মাধ্যমে বেশি কাজ হচ্ছে। একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের বৈচিত্র্যময়তা তুলে ধরতে পারছি, এর চেয়ে আনন্দের আর কী আছে?’
