বিশ্বে মৃত্যুর অর্ধেকই ৮ মাসে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪১ এএম

করোনার ডেল্টা ধরন এখনো প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বহু মানুষের। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারীতে এ পর্যন্ত অর্ধকোটি অর্থাৎ ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি রয়টার্সের। যদিও আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে এই সংখ্যা ৪৮ লাখ ছাড়িয়েছে।

রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারী শুরুর এক বছরে ২৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় সারা বিশ্বে আর বাকি ২৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে গত আট মাসের মধ্যে। করোনার ডেল্টা ধরন ছড়ানোর কারণেই কম সময়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনার ডেল্টা ধরন সংক্রমণ ঘটাচ্ছে ১৯৪ দেশের মধ্যে ১৮৭ দেশে। সংস্থাটির ভাষ্য, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরাই মূলত ডেল্টার ধরনে কাবু হচ্ছেন। হার মানছেন মৃত্যুর কাছে।

তবে শনিবার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে এ ভাইরাসে ৭ হাজার ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সারা বিশ্বে মৃত্যু ৪৮ লাখ ছাড়াল। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৫৮ জন। আর সেরে উঠেছেন ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ জন।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৮ লাখ ৫ হাজার ৯২ জনের। আর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ কোটি ৫০ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৭ জন। এর মধ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২১ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৬৩ জন।

এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। দেশটিতে ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৮৪ জন। আর সেরে উঠেছেন ৩ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৪৯৪ জন।

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ জন।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ কোটি ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৯২ জন মারা গেছেন। আর সেরে উঠেছেন ২ কোটি ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৪৩ জন।

তালিকায় এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা, স্পেন, কলম্বিয়া ও ইতালি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ভাইরাসে দেশটিতে প্রথম মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। এরপর ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।

সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। তবে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের করোনা পরিস্থিতি ফের খারাপ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত