সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩)

সম্পর্কের টানাপড়েনে ব্যয় বাড়ছে ৬৩ শতাংশ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৯ পিএম

ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পরিশোধিত পানি সরবরাহে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন নতুন প্রকল্পের ব্যয় ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়নো হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসা কার্যক্রমের বেহাল দশার পেছনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর অসহযোগিতাকে দায়ী করছে। মেঘনার পানি দূষণের অজুহাতে এত সংস্থা কোনো অর্থ ছাড় করেনি। এতে ৫ বছর সময় গচ্চা গেল। এখন এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পের সংশোধনী এনে ৪৫৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প ৭৫১৮ কোটি টাকা হচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন হতে যাচ্ছে। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। সভায় তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সভার বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের বিফিং করবেন।

ঢাকা ওয়াসা কর্র্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পটির কাজ পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি। পুরো ৫টি বছরই মাটি হলো। সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি কারণে প্রকল্পের কাজে গতি আসেনি। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী হতে পর্যাপ্ত তহবিলপ্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরি হয়। তারা কোনো অর্থ ছাড় করেনি। মেঘনা নদীর তীরে চলমান শিল্প কার্যক্রম ও নদীর পানি দূষণের কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। এর বাইরে প্রকল্পের কাজের ওপর আমান গ্রুপ কর্র্তৃক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। এটির রায় পেতেও সময় লেগেছে। এছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের নির্মাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া; মূল্যস্ফীতি সমন্বয় এবং পরামর্শক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি চার হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। তাতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ঋণ নেওয়া হবে ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা ডানিডা, এএফডি, কেএফডব্লিউ ও ইআইবি থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সংস্থাগুলোর সঙ্গে নানা টানাপড়েনের কারণে প্রকল্প খরচ ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকায় উন্নীত হচ্ছে। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ হিসেবে দেবে ৪ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ জিওবি থেকে ২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা এবং নিজস্ব অর্থায়ন ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করে ঢাকা ওয়াসা।

প্রকল্পের আওতায়, ৪৫০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নির্ভরতা কমানো, বিদ্যমান প্ল্যান্ট-১, প্ল্যান্ট-২ ও প্রস্তাবিত প্ল্যান্ট-৩ এর জন্য সøাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ৯৫০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, ইনটেক পাম্পিং স্টেশন থেকে অপরিশোধিত পানি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পর্যন্ত সরবরাহের জন্য টুইন রো ওয়াটার ট্রান্সমিশন (প্রতিটি ২০০০ মিলিমিটার ডায়া) লাইন স্থাপন এবং সায়েদাবাদ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পরিশোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিতরণ লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার হরিয়ায় মেঘনা নদীর ডান তীর থেকে অপরিশোধিত পানির ট্রান্সমিশন লাইন বসিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাকরাইল, পল্টন, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সরবরাহ করার চিন্তা ছিল ঢাকা ওয়াসার।

প্রকল্পের আওতায় ৩৪.৩১ একর জমি অধিগ্রহণ, ১টি ৪৫০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ, ৯৫০ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, ৩টি ফেজের জন্য সøাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, ডিজাইন ও সুপারভিশনের জন্য ১ হাজার ৩১৫ জনমাস (একজন ব্যক্তি যত মাস কাজ করে) পরামর্শক সেবা গ্রহণে বরাদ্দে এই অর্থ ব্যয় হবে। এর বাইরে ৫২.৮০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন ও ৫৪ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন এবং ইনটেক ও শোধনাগারে কানেকশনসহ ৩৩ কেভিএ ইলেকট্রিক লাইন স্থাপনও করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা শহরের চার পাশের নদী যেমন বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগে পানির দূষণমাত্রা অনেক বেশি। যার কারণে সেসব নদীর পানি পরিশোধনের অযোগ্য। তাই মেঘনা নদী থেকে পানি নিয়ে আসা ছাড়া এখন অন্য কোনো বিকল্প নেই। ওয়াসা বলছে, উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়োগকৃত পরামর্শকদের সুপারিশের কারণে ১০ কিলোমিটার পানির লাইনের এলাইনমেন্টসহ বেশ কিছু কাজ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। তারা বলছে, প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দেড়  থেকে ২ বছর সময় লাগবে। এ ছাড়া নির্মাণকাজের জন্য সাড়ে তিন বছরের মতো সময় প্রয়োজন হবে। তাই মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত