উষ্ণতা ও স্পর্শের অনুভূতির গবেষণা

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন জুলিয়াস ও প্যাটাপুটেন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৭ এএম

তাপমাত্রা ও স্পর্শের রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য চলতি বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড জুলিয়াস এবং আর্ডেম প্যাটাপুটেন। মানবদেহে স্পর্শ বা উষ্ণতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়া, উপলব্ধি করা ও শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভূমিকা রাখা রিসেপ্টর শনাক্ত করেন তারা। গতকাল সোমবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশ সময় দুপুরে এক অনুষ্ঠানে নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে এই দুই বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মানবদেহের যে নার্ভ সেন্সরের কারণে আমাদের ত্বক তাপ অনুভব করতে পারে সেই সেন্সরকে শনাক্ত করতে অবদান রেখেছেন জুলিয়াস। আর প্যাটাপুটেন মানবদেহের কোষে আলাদা চাপ-সংবেদনশীল সেন্সর খুঁজে পেয়েছেন। এই সেন্সরের কারণে দেহ কোনো উদ্দীপনায় সাড়া দিতে পারে।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এই আবিষ্কারকে যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এই বছরের নোবেল পুরস্কারে বিজয়ীদের আবিষ্কারের কারণে আমরা এটা জানতে পেরেছি যে কীভাবে তাপ, ঠান্ডা এবং যান্ত্রিক শক্তি আমাদের অনুভূতিকে নাড়া দেয় এবং আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি ও বিশ্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে ক্রনিক ব্যথাসহ আরও নানা ধরনের রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি বের করার চেষ্টা চলছে। তাছাড়া তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক তাপ-সেন্সরও আবিষ্কার করা হচ্ছে। জুলিয়াস এবং প্যাটাপুটেন ঠান্ডা শনাক্ত করার সেন্সরও খুঁজে পেয়েছেন।

ডেভিড জুলিয়াস সান ফ্রান্সিসকোয় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। আর আর্ডেম প্যাটাপুটেন কাজ করেন আমেরিকান স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার দুজন সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।

গত বছর চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী হার্ভে জে আল্টার ও চার্লস এম রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল হাউটন। হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস আবিষ্কার এবং এর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তারা এই পুরস্কারে ভূষিত হন। তার আগের বছরও চিকিৎসায় তিনজন বিজ্ঞানীকে নোবেল দেওয়া হয়েছিল।

সাধারণত প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর এই পুরস্কারের জনক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত বছরের মতো এবারও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।

প্রতিবছর চিকিৎসায় নোবেলের মধ্য দিয়ে ৪ অক্টোবর থেকে এই পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হলো। এরপর ৫ অক্টোবর পদার্থবিদ্যা, ৬ অক্টোবর রসায়ন, ৭ অক্টোবর সাহিত্য এবং ৮ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। আর আগামী ১১ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত