সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এ পর্যন্ত ৫৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে তদন্ত কমিটির কাছে রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন চুল কাটার বিষয়ে জবাব দিতে দুই সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি লিখিতভাবে এ সময় প্রার্থনা করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারহানার সময় প্রার্থনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তদন্ত কমিটির মিটিং চলছে। মিটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চুল কাটার ঘটনা তদন্তে রবি কর্র্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিটি গঠন করে। ওইদিন থেকেই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে ওই শিক্ষিকার কাছে জবাব চেয়ে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে ৩ অক্টোবর সকালে রবির প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে হাজির হয়ে এ ঘটনার জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু ওইদিন হাজির না হয়ে গতকাল দুপুরে দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেন ফারহানা। তাকে সময় দেওয়া হবে কি না অথবা কত দিনের সময় দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে তদন্ত কমিটি গতকাল সন্ধ্যার পর রবির প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে জরুরি বৈঠকে বসে। এর আগে গত রবিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্যাতিত ওই ১৪ ছাত্রসহ ৫৭ জন হাজির হয়ে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেয়।
পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের দাবি করায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন। এ ঘটনায় নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ওই শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ও অনশনের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে রবির সিন্ডিকেটের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে গত শনিবার দুপুর থেকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে তাদের চলমান আন্দোলন শিথিল করেন।
