চট্টগ্রামে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। পাইকারিতে ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, ভারতে পেঁয়াজের বুকিং রেট বৃদ্ধির কারণে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে নিত্যপণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী।
দেশের ভোগ্যপণ্যের প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগেও ভারত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩২-৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৪০-৪৫ টাকায়। কিন্তু গত ২-৩ দিনে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম পাইকারি ও খুচরায় এক লাফে কেজিতে বেড়ে গেছে ১৫-২০ টাকা ।
গতকাল খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, আড়তগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে কাছাকাছি দামে। অন্যদিকে খুচরায় এই পেঁয়াজ ১০-১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন দোকানিরা। এদিন বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। দোকানিরা জানান, খাতুনগঞ্জ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। তাই লোকসান এড়াতে খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বৃহত্তর পাইকারি মার্কেট হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতে প্রচুর পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় সেখানে বুকিং রেট বেড়ে গেছে। ফলে লোকসানের ভয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। তাই খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দৈনিক সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কমে গেছে। আগে দিনে এক থেকে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ বাজারে এলেও এখন আসছে ৬০০-৭০০ টন। ভারতীয় পেঁয়াজের দরবৃদ্ধিতে চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মিয়ানমারের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও বাড়তি। এদিকে আজ বুধবার থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলা পর্যায়ে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সেখানে তুরস্ক থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমদ।
