দেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রের সিআইপি মাল্টিবিলিয়নিয়ার ডাক্তার কালী প্রদীপ চৌধুরী। রূপায়ণ গ্রুপের নির্মিত এ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে মনটা পরিতৃপ্ত হয়ে গেছে। এ প্রজেক্ট বিশ্বমানের প্রজেক্ট। যা বিশ্বের যেকোনো প্রজেক্টের সঙ্গে তুলনাযোগ্য। আই ফিল ভেরি গুড। ঢাকাতে এরকম একটা আবাসন গড়ে উঠেছে। যার ডিজাইন ইজ বিউটিফুল।’ গত সোমবার সন্ধ্যায় রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি।
রূপায়ণ সিটি উত্তরার স্থাপত্যশৈলীর ভূয়সী প্রশংসা করে ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘যেভাবে এটা তৈরি হয়েছে; এখানে এসে মানুষ শ্বাস নিতে পারবে। যা প্রত্যেকের জন্য হাসপাতালের মতো কাজ করবে। এটা এক্সিলেন্ট প্রজেক্ট।’ এ সময় এমন একটি প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আমাদের দেশের একজন রূপকার।’
প্রকল্প পরিদর্শনের আগে ডা. কালী প্রদীপ প্রকল্পের মডেল দেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের কমিউনিটি ক্লাব, সুপার শপ, মসজিদ, অ্যাভিনিউ রোড ঘুরে দেখেন। পুরো প্রকল্প পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘মডেলের চেয়ে বাস্তবে আরও সুন্দর। এত সুনিপুণভাবে এ প্রজেক্ট তৈরি করার জন্য রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুলকেও ধন্যবাদ জানাই।’
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তিনি পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন পি জে উল্লাহ, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ও হেড অব অপারেশন (ম্যাক্সাস) সাদাত হোসেন সেলিম, উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব, রূপায়ণ সিটি উত্তরার ডিএমডি মাহবুবুর রহমান, রূপায়ণ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল কবির উদ্দিন আহমেদসহ গ্রুপের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। পরে রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০১৬ সালে পূর্বাচলে ১৪২ তলাবিশিষ্ট আইকনিক টাওয়ার নির্মাণের কাজ করার আগ্রহ দেখায় ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরীর মালিকানাধীন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ। যদিও পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত জমি না পাওয়ায় প্রকল্পটি হয়নি।
কেপিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কালীপ্রসন্ন দত্ত চৌধুরী ও মায়ের নাম শোভা দত্ত চৌধুরী। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিআইপি। পেশায় একজন অর্থোপেডিক সার্জন হলেও মূলত তিনি এখন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নগরের পর নগর গড়ে তুলেছেন তিনি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুক্তরাজ্য, ভারত ও আরব আমিরাতসহ পৃথিবীর আটটি দেশে রয়েছে ২৫ ধরনের ব্যবসা। ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী একজন মাল্টিবিলিয়নিয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে এক শহর, নাম করোনা। এ শহরের একটি এলাকার নাম কেপিসি পার্কওয়ে। এই এলাকার অধিকাংশ ভবনই কেপিসি গ্রুপের অফিস। তার প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে দেশটির প্রশাসন একটি রাস্তার নামকরণ করেছে তার মায়ের নামে। রাস্তাটির নাম ‘শোভা ওয়ে’। ক্যালিফোর্নিয়াতে তার সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা বাড়ির নিয়মিত অতিথি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন।
ষাটের দশকের শেষের দিকে মাত্র ৮ ডলার হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান ডা. কালী প্রদীপ। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নির্মাণ করেছেন অসংখ্য নগর। যুক্তরাজ্যে বাকিংহাম প্যালেসের সামনে নির্মাণ করছেন একটি পুরো গ্রিন টাউন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে তার ১৬টি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট। সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দুটি হাসপাতাল কিনে আলোচনায় আসেন তিনি। ইউক্রেনে আছে তার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, দুবাইয়ে আছে সাত তারকা হোটেল। শুধু ভারতেই এ সফল উদ্যোক্তার রয়েছে ১৬টি চা বাগান।
