দেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর গত রবিবার দৈনিক শনাক্ত হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এর আগে গত রবিবার দেশে ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তবে সোমবার তা বেড়ে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ; মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এদিকে টানা ১ মাসের বেশি সময় ধরে দেশে নতুন রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেও দেশের বেশিরভাগ জেলায় দৈনিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ওপরে থাকলেও গড় শনাক্তের হার ছিল ১০ শতাংশের ঘরে। তবে মাস শেষে বেশিরভাগ জেলাতেই শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এমনকি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তা পাঁচ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। অর্থাৎ গত ১৫ দিন ধরে শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল মঙ্গলবারের হিসাব অনুসারে ১৪ জেলায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। অন্য জেলাগুলোতে শনাক্তের হার খুবই কম। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন ৬৯৪ রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫২ জেলায় কোনো মৃত্যু হয়নি। ১ জন করে ১০ জেলায় এবং কুমিল্লা জেলায় ৩ জন ও ঢাকা জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে নতুন শনাক্ত রোগী ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৬১৪ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৭৯৪ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৮ জনের। সে হিসাবে গত এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কামলেও মৃত্যু বেড়েছে। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে সুস্থ হয়েছে আরও ৭০৮ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ২০ হাজার ২৯৬ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক দিনে দেশে ২৫ হাজার ৪৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়াচ্ছে ২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছে ২৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন মারা যান। এছাড়া রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে। তবে সিলেট ও রংপুর বিভাগে কেউ মারা যায়নি।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে চারজন ও ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ২৪৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৭৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ৪০ হাজার ২৩৬ জন।
