ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি, ব্যর্থতা, লুটপাট, বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদ হিসেবে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে বলে মনে করছে বিএনপি। গত সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন শাসক দলের ওপর অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তাই জনগণ সুযোগ পেলে বিএনপিকে ভোট দেবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দেশের মানুষ বিএনপির সময়ে কী পেয়েছে আর আওয়ামী লীগের সময়ে কী পেয়েছে, সেটির তুলনা করতে হবে। জনগণ কাকে ভোট দেবে, আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? তিনি বলেন, কারা, কেন, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে, কোন আশায় বিএনপিকে ভোট দেবে?’
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তারা দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। জীবিকারও কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে ভয় ও ত্রাস। সন্ত্রাস ছাড়া আর কোনো কিছুই নেই। ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়াবেন বলে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন ৭০ টাকা কেজির চাল। ফলে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তারা বিনা পয়সায় সার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা দেননি। মানুষ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে।’
সার্চ কমিটির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সার্চ কমিটির নামে দলীয় লোকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কমিশন গঠন করেন। আর সেই কমিশন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের থেকেও আগ বাড়িয়ে দলীয় ভূমিকা পালন করেছে। যেটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি একটা ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রেখেছেন। তাকে এত ভয় পান যে, বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে দেন না। তিনি মুক্তি পেলেই জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, তা সামলাতে পারবে না সরকার। এ কারণে তাকে মুক্তি দেন না তারা।’
‘আগামী নির্বাচনও দলীয় সরকারের অধীনে হবে এবং সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান কোনো বাইবেল নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। মানুষের প্রয়োজনেই সংবিধান।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন নির্বাচন খেলায় জনগণ আর অংশ নেবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট চুরি করে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এখন তারা বলছে আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে। তাহলে হয়ে গেল, ১৫০টি আসন নিয়ে গেলে আর তো কিছু লাগে না।’
তিনি বলেন, ‘তারা যদি সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন চায়, তাহলে আগে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে আওয়ামী লীগকে। তারপর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংলাপে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি পরে আসবে। আগে সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বসবে কি না সেটাই বিষয়। এখানে একটাই ইস্যু থাকবে। সেটা হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। আমরা কিছুই চাই না, শুধু নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাই। আমরা তো কোনো অন্যায় দাবি করছি না। এখন এই ইস্যুতে সরকার বসতে না চাইলে কিছু তো করার নেই।’
