করোনা পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়লেও এখন গতি বেড়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মীয়মান বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজে। মাত্র ১০ মাসে শেষ হচ্ছে প্রকল্পের দ্বিতীয় টিউবের খননকাজ। আগামী বছরের শেষদিকে পুরো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে টানেল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
তারা জানান, গত বছর আগস্টে টানেলের প্রথম টিউবের খননকাজ শেষ হয়। এখন স্ল্যাব লাগানো ও ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সেখানে গত এক বছরে অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শুক্রবার দ্বিতীয় টিউবের খননকাজ শেষ হলে সেখানেও স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ সহায়তায় ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী প্রজেক্ট’ নামে প্রকল্পটিতে নদীর তলদেশে দেশের প্রথম এই সুড়ঙ্গপথের নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বন্ধ না থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে মাঝে দেড় বছরের বেশি সময় আমরা গতি হারিয়ে ফেলেছিলাম। যে কারণে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি আসেনি। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় কাজের গতি বেড়েছে। টানেলের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং শুক্রবার শেষ হচ্ছে। এরপর টিউব পরিষ্কার করে সেখানে স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম টিউবের খননকাজ গত বছর আগস্টে শেষ হলেও সেখানে সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২ হাজার ৪৫০ মিটারের মধ্যে এ পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৬৬০ মিটার কাজ হয়েছে। টিউবের ইন্টারনাল স্ট্যাকচারের কাজের পাশাপাশি টানেলের দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজও এগিয়ে চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছরের ডিসেম্বরের আগেই টানেলের দুয়ার যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’
দক্ষিণ এশিয়ায় নদীর তলদেশে প্রথম টানেল প্রকল্প কর্ণফুলী নদীর এই বঙ্গবন্ধু টানেল। চীনের সাংহাই শহরের মতো চট্টগ্রাম শহরকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে গড়ে তোলা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়তে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন। নদীর তলদেশের সুড়ঙ্গসহ পতেঙ্গা ও আনোয়ারা এলাকায় ৯.৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ করছে চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং যৌথভাবে প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, টানেলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তে প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তের চট্টগ্রাম শহর, বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গে উন্নত ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ফলে ভ্রমণ সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও প্রস্তুত করা মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনের ফলে সেখানে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে। টানেলটি নির্মাণ হলে তা সার্বিকভাবে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
