ম্যালেরিয়া রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বের প্রথম টিকার অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বুধবার জাতিসংঘের এই সংস্থাটি ম্যালেরিয়ার একটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর ম্যালেরিয়ার একটি কার্যকর টিকা তৈরির বিষয়টি চিকিৎসাশাস্ত্রের জন্যই বড় এক অর্জন। এর ফলে প্রতি বছর লাখো শিশুর মৃত্যু ঠেকানোর পথ তৈরি হলো।
বিশ্বের অন্যতম পুরনো এবং অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ এই ম্যালেরিয়া। মশাবাহিত এ রোগে প্রতি বছর মোটামুটি ২৩ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর ৯৫ শতাংশই ঘটে সাব সাহারা আফ্রিকায়। তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি।
বিবিসি লিখেছে, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের তৈরি করা টিকাটির নাম আরটিএসএস, যার ব্র্যান্ড নাম মসকুরিক্স। এই টিকা কেবল ম্যালেরিয়া নয়, যেকোনো পরজীবীঘটিত রোগের বিরুদ্ধে মানুষের তৈরি করা প্রথম কার্যকর টিকা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে ঘানা, কেনিয়া ও মালাবিতে ২০১৯ সাল থেকে পরিচালিত একটি পাইলট কর্মসূচির ফলাফলের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচওর এই সিদ্ধান্ত এলো। টিকার ওই ট্রায়ালে দেখা যায়, এ টিকা প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজনের শরীরে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। আক্রান্ত হলেও প্রতি ১০ জনে তিনজনের গুরুতর অসুস্থ হওয়া রোধ করে। আর আক্রান্ত হলে শিশুদের দেহে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তা এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনে। তবে কার্যকর সুরক্ষা পেতে এ টিকার চারটি ডোজ নিতে হয়। শিশুর বয়স পাঁচ মাস হলে এক মাস অন্তর প্রথম তিনটি ডোজ দিতে হয়। আর চতুর্থ বুস্টার ডোজটি দিতে হবে ১৮ মাস বয়স হলে।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এ টিকা দেওয়া হয়েছে ২৩ লাখ শিশুকে। তাতে দেখা গেছে, এ টিকা নিরাপদ এবং ম্যালেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণ ৩০ শতাংশ কমাতে সক্ষম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, শিশুদের জন্য ম্যালেরিয়া টিকার প্রতীক্ষা বহুদিনের। বিজ্ঞান, শিশু স্বাস্থ্য ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এটা যুগান্তকারী ঘটনা। এই টিকা প্রতি বছর লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
আর সংস্থাটির আফ্রিকা ডিরেক্টর মাতশিডিসো মোয়েতি বলেছেন, আজ আফ্রিকার জন্য একটা আশার কিরণ দেখা যাচ্ছে। আফ্রিকায় এই রোগের প্রকোপ খুব বেশি। আশা করব, আফ্রিকার বাচ্চারা ম্যালেরিয়ার হাত থেকে রেহাই পাবে, তারা সুস্থ অবস্থায় বেড়ে উঠবে।
ক্যামব্রিজ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল রিসার্চের ডিরেক্টর জুলিয়ান রেনার বলেছেন, এটা একটা বিশাল পদক্ষেপ। এটা একটা অসম্পূর্ণ টিকা। তা সত্ত্বেও তা হাজার হাজার শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আজরা গনি বলেছেন, ভ্যাকসিন ৩০ শতাংশ কার্যকর হলেও বহু জীবন বাঁচবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও চাপ কমবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। এক বছর ধরে ৪৫০ জনের ওপর তার পরীক্ষা চলছে। এই ভ্যাকসিন ৭৭ শতাংশ সফল।
